পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ২৭ জন শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষকসহ ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম ডনকে জানান, ছাদধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ হয়েছে। আহত ১৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর বলে এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে জানান, আল খায়ের স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ছিল। এতে অনেক শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।
ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। আটকে পড়াদের উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ডনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামিউল্লাহ নামের এক অভিভাবক জানান, স্কুলের ছাদ ধসের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন তিনি।
সামিউল্লাহ বলেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বাড়ি থেকে ফোন পান। প্রায় ১০ মিনিট পর, সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার ছয় সন্তান ওই স্কুলে পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, ‘ভবনটি দেখে আমার মনে হয়েছিল, আমার ছেলেও মারা গেছে।’
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং ছাদ ধসে পড়ার কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ইসহাক দার বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের এমন প্রতিটি মৃত্যু পুরো দেশের জন্যই এক দুঃখজনক ঘটনা।’
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা এবং স্কুলগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
কেকে/ এমএস