বগুড়ার সোনাতলায় পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় ছয় বছরের শিশু ইউসুফ আলীকে হত্যার অভিযোগ মা রিনি বেগমকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় তার কথিত প্রেমিকের সম্পৃক্ততা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট গ্রামের একটি ধানখেত থেকে ইউসুফের ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর তার মরদেহ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বিকার করেছেন।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউসুফের মা রিনি বেগমের সঙ্গে তার প্রথম স্বামী পলাশ মিয়ার প্রায় দেড় বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। তাদের সংসারে ইউসুফের জন্ম। বিচ্ছেদের পর পলাশ বগুড়া শহরে বসবাস শুরু করেন। অন্যদিকে রিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে সোনাতলার বড় বালুয়া এলাকায় সংসার শুরু করেন। ওই সংসারে মায়ের সঙ্গেই থাকত ইউসুফ।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় সংসারে থাকার সময় রিনি বেগম সজল নামের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই যুবক মাঝেমধ্যে তার বাড়িতে আসতেন। গত ১০ অক্টোবর তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে ইউসুফ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় ওই রাতেই সজলকে সঙ্গে নিয়ে একটি বাগানে শিশুটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে রিনি বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন। পরে মরদেহ পাশের একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে ১২ অক্টোবর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রিনি বেগম। বুধবার স্থানীয় লোকজন বাড়ির কাছের একটি ধানখেতে দুর্গন্ধ পেয়ে সেখানে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার বিষয়ে তথ্য দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ইউছুব আলী বাবা পলাশ মিয়া বাদী হয়ে রিনি বেগম ও তার প্রেমিক সজলের বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় মামলা করেছেন।
কেকে/এআই