নেত্রকোনার মদন উপজেলায় সরকারি নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অভিযোগে সাইতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান জানুসহ চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশপ্রাপ্ত অন্য তিন শিক্ষক হলেন সহকারী শিক্ষক মোক্তাদির, হেভেন চৌধুরী ও নাহিদা আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সরকারি নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয়টি ছুটি দেওয়া হয়। পরে সড়কে শিক্ষার্থীদের দেখতে পান কয়েকজন স্থানীয় সংবাদকর্মী। তারা বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান জানু ও সহকারী শিক্ষক মোক্তাদিরকে দেখতে পান। এ সময় তারাও বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান জানু সংবাদকর্মীদের জানান, একজন শিক্ষকের মাথাব্যথা থাকায় তিনি চলে গেছেন। অন্য একজন শিক্ষকের ছেলে অসুস্থ থাকায় তিনিও চলে যান। এ অবস্থায় বাকি দুই শিক্ষকের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সামলানো সম্ভব হবে না মনে করে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
পরে বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
এ দিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার হার বেড়েছে। বিদ্যালয়টি নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করা, নিয়মিত পাঠদান না করা এবং যেকোনো সময় ছুটি দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব কিন্ডারগার্টেন থাকায় বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সেখানে ভর্তি করানো হয় এবং তাদের উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয় না বলে অভিযোগ তাদের। বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা প্রধান শিক্ষকের বদলির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ সব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান জানুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, ‘সরকারি নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক আগেই দুই শিক্ষককে ছুটি দিয়েছিলেন। পরে বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মোক্তাদিরকেও বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। এ কারণে প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।’
কেকে/এআই