শারদীয় দুর্গাপূজায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মৌলভীবাজার সীমান্ত সংলগ্ন ১০৯টি পূজামণ্ডপ ঘিরে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো উসকানিমূলক তৎপরতা ও নাশকতা রুখতে টহল জোরদারের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে কঠোর সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শহরের শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালীবাড়িতে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব কড়া সতর্কবার্তা জানান শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মইন হাসান।
পূজার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি।
শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধীন সীমান্ত রেখার ৮ কিলোমিটারের ভেতরের ৮৫টি এবং ব্যাটালিয়ন সদরের ৩ কিলোমিটার এলাকার ২৪টিসহ মোট ১০৯টি পূজামণ্ডপকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
এনটিএমসি (NTMC) প্রস্তুতকৃত বিশেষ ডিজিটাল অ্যাপ ‘শারদীয় সুরক্ষা’ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের রেসপন্সার হিসেবে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর সংকেত পেলেই দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া যায়।
পূজা ঘিরে সীমান্তে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র বা গোলাবারুদ পাচার এবং চোরাচালান না ঘটে, সে জন্য সীমান্ত টহল ও সার্বক্ষণিক গোপন গোয়েন্দা তৎপরতা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
স্থানীয় জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সাথে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখে যেকোনো পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মোকাবিলার জন্য বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রীমঙ্গলের ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসানসহ বিজিবির কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তিনি পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে কথা বলেন এবং যেকোনো ধরনের উসকানিতে কান না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিক অবহিত করার কঠোর নির্দেশনা দেন।
কেকে/এআই