সৌদি আরবের চলমান পরিস্থিতি ও হামলার আতঙ্কে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে। এতে একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী যাত্রীসহ হাজারো মানুষ।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত মোট ১১৭টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন ও স্থগিতের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।
বেবিচকের তথ্যানুযায়ী, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকাবাহী উড়োজাহাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সংস্থাটির ১৭টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে এই এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের ওপর।
ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিদেশগামী কর্মী, ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসী এবং জরুরি কাজে বিদেশযাত্রার পরিকল্পনা করা যাত্রীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকের কর্মস্থলে যোগদানের সময়সীমা থাকায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি, টিকিট পরিবর্তন ও অতিরিক্ত অবস্থানের খরচ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন যাত্রীরা।
পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যাদের ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে, তাঁদের নতুন সময়সূচি ও টিকিট-সংক্রান্ত নির্দেশনা জেনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বেবিচকের পক্ষ থেকে।
এদিকে বাতিল হওয়া ফ্লাইট এর বেশ কিছু যাত্রী, জরুরী প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগে ভিন্ন পন্থায় ভিন্ন রুটে সৌদি আরব পৌঁছাচ্ছেন, তবে সেই জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট, বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল আউয়াল নামে কিশোরগঞ্জ থেকে আসা এক যাত্রী। তিনি খোলা কাগজকে জানায়, আমার টিকিট কাটা ছিল ৩৯ হাজার টাকায়, সেই জায়গায় পৌঁছতে এখন আমার খরচ হবে, প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। তবুও যাচ্ছি, কারণ ৪০ হাজার টাকা হয়তোবা রিকভারি করা যাবে কিন্তু চাকরিটা গেলে সেটা আর রিকভারি করা যাবে না।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের যাত্রীরা ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিজস্ব উদ্যোগে বেশ কিছু যাত্রী ইতোমধ্যে পৌঁছে দিয়েছেন, বাকিদের পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা চলছে, যে সকল যাত্রী বেশি জরুরি তারা ভিন্ন পন্থায় টিকেট কেটে বিভিন্ন রোড হয়ে সৌদি পৌঁছাচ্ছেন।
কেকে/এমএ