মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। দল যেন বিব্রত না হয়, সে কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি জমি দখল কিংবা চাঁদাবাজি করতে যাইনি, মাদক নির্মূলে সেখানে গিয়েছিলাম।’
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ার রেললাইন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায় ইশরাক হোসেনকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে ভিডিওটি। শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত থেকেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে পদত্যাগের আনুষ্ঠানি ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি।’
তিনি জানান, যে এলাকায় তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। এলাকাটি সব রকম মাদকের ডিস্ট্রিবিউশন হাবে পরিণত হয়েছে। তাদের কাছে অর্থ-অস্ত্র সবই রয়েছে।
যে অস্ত্রটি নিয়ে আলোচনা; তা বৈধ এবং আত্মরক্ষার্থে কিছু সময়ের জন্য হাতে নিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সেখানে যেতে চায় না।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সেখানে জমি দখল বা চাঁদাবাজি করতে যাইনি। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম। মিডিয়া সেই অবজেক্টিভ ধ্বংস করেছে।’
‘ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ চলতে থাকবে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দল চাইলে মেয়র নির্বাচনের জন্যও শতভাগ প্রস্তুত আছেন।’
কেকে/এমএ