সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সাত দফা দাবির সমাধান না হলে তা এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদে বসেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারসহ তাদের দাবিগুলোর সমাধান চান তারা। তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও গণবিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লংমার্চ উপলক্ষে যশোর শহরের মুড়লী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে দাবি বাস্তবায়নের জন্য সময় দিতে চান তারা। তবে সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে সাত দফা দাবি শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। এ ধরনের আন্দোলনের ডাক দিতে তাদের বাধ্য না করার জন্যও সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।
পথসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান ও মুফতি শরাফত হোসেন বক্তব্য দেন।
প্রায় ৩০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ পথসভা একপর্যায়ে জনসভায় রূপ নেয় বলে আয়োজকেরা জানান। এতে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, মাওলানা মোক্তার আলী, মাওলানা আজিজুর রহমান ও অ্যাডভোকেট এনামুল হক। এ ছাড়া ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফরহাদ, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর, এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার আশাসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর নওয়াপাড়ায় পৌঁছালে সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানান। সেখানে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান।
পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাড়িবহর যশোর শহরের মুড়লী মোড়ে পৌঁছায়। সেখানকার কর্মসূচি শেষে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে লংমার্চের বহর মণিহার, বারান্দীপাড়া, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়, নতুন উপশহরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি, চুড়ামনকাটি ও সাতমাইল হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা অতিক্রম করে ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হয়।
পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে শত শত নারী-পুরুষ লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানান।
কেকে/এআই