রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় মিরপুরের বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার।
তিনি জানান, রোববার শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া, আরেকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মিরপুরের বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সোমবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও মামলা হতে পারে।
এদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সোমবারও মিরপুরের সড়কে নামার চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকরা। মিরপুর-২ ও মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় দুই দফায় শ্রমিকদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
এ বিষয়ে ডিসি হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, শ্রমিকরা দুই দফায় সড়কে নামার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মিরপুর গোলচত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও প্রিভেনশন-উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা আইন অমান্য করে জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করছে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে কারও বিশেষ পরিচয় বিবেচ্য নয়। যারা আইন লঙ্ঘন করে জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/সাশ