বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। তবে কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কারখানায় কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। শ্রমিক বিক্ষোভ ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। সোমবার গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকলেও মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন আরও জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কতটি কারখানা চালু হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।
কেকে/সাশ