চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশনে সহস্রাধিক লোক ছাত্রজনতা ট্রেন অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে শত শত সাধারণ যাত্রী।
বুধবার (৪ অক্টোবার) সকাল ১০টায় উপজেলার আনসারবাড়িয়া ট্রেনস্টেশনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
তিন দফা দাবি আদায়ে আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশন রক্ষা ও উন্নয়ন সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির ডাকে সকাল ১০ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়।
কর্মসূচি চলাকালে খুলনা-ঢাকা, খুলনা-রাজশাহী, খুলনা-সৈয়দপুর ও খুলনা-চাঁপাইনবাগঞ্জ পথে সব ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। অবরোধের মুখে এসব ট্রেনের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অবরোধের কারণে এসব পথের ট্রেনগুলোর চলাচলের সময় বিপর্যয় ঘটে।
অবরোধকারীরা জানান, আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্টেশনটি আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়ন এবং চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরপাল্লায় মালামাল পরিবহনে এ স্টেশন ব্যবহার করেন।
তাদের অভিযোগ, বর্তমানে স্টেশনটিতে যে ট্রেনটি থামে, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ফলে নিচু স্থান থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ কারণে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালু ও সেখানে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানান তারা।
অবরোধকারীদের তিন দফা দাবি হলো ঐতিহ্যবাহী আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগ; আধুনিক মানের প্ল্যাটফর্ম, বিশ্রামাগারসহ স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহীগামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রমজান বলেন, আমরা এই এলাকার মানুষ ছাড়া আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের সাধারণ যাত্রীরা এ স্টেশন ব্যবহার করে যাতায়াত করি। অনেক ব্যবসায়ীও এখান থেকে দূরদূরান্তে মালামাল নিয়ে যান। তাই আমাদের প্রধান দাবি, ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামাতে হবে। বর্তমানে যে ট্রেনটি থামে, সেটি ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায় নিচ থেকে ঝুলে ঝুলে ট্রেনে উঠতে গিয়ে নারীসহ সব যাত্রীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, স্টেশনটি অনেক পুরোনো হলেও এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর, দামুড়হুদা ও দর্শনা এবং ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। তারা সহজে ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
অবরোধকারীরা জানান, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের তিন দফা দাবি মেনে নেয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান জানান, আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন চালুর দাবিতে স্থানীয়রা রূপসা এক্সপ্রেস আটকে রেখে আন্দোলন করেন। এতে খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য আসা যাত্রীরা স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। এ পরিস্থিতিতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে বিলম্বের পাশাপাশি সার্বিক সময়সূচিতে বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল।
দুপুর দেড় টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও)সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি দাবি পূরণে রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করার আশ্বাস দেন দিলে অবরোধকারী অবরোধ তুলে নেয়।এসময় দ্রুত সময়ে স্টেশনমাস্টারসহ জনবল নিয়োগ, আধুনিক মানের প্ল্যাটফর্ম, বিশ্রামাগারসহ স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহীগামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আনসারবাড়িয়া স্টেশন রেলপথ অবরোধ করে স্হানীয়দের বিক্ষোভে সিডিউল বির্পয ঘটেছে।ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।আপ-ডাউন ট্রেনের সিডিউল বির্পযয় কাটাতে সপ্তাহ খানিক সময় লাগবে।
উল্লেখ্য, আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনে লোকবল সংকট দেখিয়ে ২০১০ সালের ২৮ মার্চ ও ২০১৮ সালের ৫ জুলাই সকল স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
কেকে/ এমএস