শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় মিরপুরকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই মিরপুর এলাকার দীর্ঘদিনের নাগরিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
বিদ্যালয়টির প্রতি নিজের গভীর অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে তিনি সব সময় নিজের স্কুলের মতো মনে করেন। প্রতিষ্ঠানটির যেকোনো প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। মিরপুরের মতো জনবহুল এলাকায় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় সিটি করপোরেশন সব সময় বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক জানান, মিরপুর এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করায় সাধারণ পথচারী, নারী ও শিক্ষার্থীরা এখন স্বাচ্ছন্দ্যে এবং নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন।
তিনি বলেন, গার্লস আইডিয়াল স্কুলের সামনে দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকা ফুটওভার ব্রিজের কাজ আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে রাস্তা পারাপার হতে পারবে।
এ ছাড়া মিরপুর-১ কাঁচাবাজারসংলগ্ন প্রধান সড়কের দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে সড়ক ও ফুটপাত সংস্কারের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষক ও মা-বাবার কথা মেনে চলতে হবে এবং তাদের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
যত্রতত্র ময়লা বা চিপসের প্যাকেট না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে কিংবা ব্যাগে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতেও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তকে ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের বিষয়গুলো যুক্ত থাকবে বলেও জানান প্রশাসক।
তিনি আরও বলেন, দুই কোটি মানুষের এই বিশাল শহরে একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে প্রতিদিন রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা কিংবা মশা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করতে হবে।
এলাকাবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নির্বাচনের আগেও তিনি এলাকাবাসীকে পাশে থাকার কথা দিয়েছিলেন। ভবিষ্যতেও তাদের ছেড়ে কোথাও যাবেন না। তিনি বলেন, “আপনাদের যেকোনো সমস্যা আমার সাধ্যের মধ্যে থাকলে তা এক সেকেন্ডও দেরি না করে আমি সমাধান করে দেবো।”
অনুষ্ঠান শেষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রশাসক।
আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/ এমএস