একজন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন শহীদ জিয়ার আদর্শ সহধর্মিণী, আদর্শ গৃহিনী, সন্তানদের মমতাময়ী মা।
এরশাদের স্বৈরশাসনকালে, দেশের প্রয়োজনে, গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আসেন রাজনীতিতে। এরশাদ কর্তৃক প্রায় ধ্বংস প্রাপ্ত বিএনপিকে তার যাদুকরী প্রচেষ্টা এবং আপোষহীন সংগ্রামের মাধ্যমে নিয়ে আসেন দেশের ক্ষমতায়।
বিগত সরকারের ভূয়া পরিসংখ্যান বাদ দিলে বেগম জিয়া সরকারের ২০০৫-৬ অর্থবছরে ৬.৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার সরকারের আমলে বাংলাদেশ পরিণত হয় দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসাবে।
তিনি মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেন। দরিদ্র শিশুদের জন্য “ফুড ফর এডুকেশন” শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ফার্স্ট লেডি মিসেস হিলারি ক্লিনটন এই কর্মসূচিকে পৃথিবীর সবচেয়ে আদর্শ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকে অনুরূপ প্রকল্প চালুর আহ্বান জানান।
দেশের মানুষ ছিল তার আপনজন, তার স্বজন।
তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কম বয়সে স্বামী (জিয়াউর রহমান) হারিয়েছি। কারাগারে থাকতে আমি মাকে হারিয়েছি। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় একটি সন্তান হারিয়েছি। আরেকটি সন্তান (তারেক রহমান) নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে দূর দেশে চিকিৎসাধীন। আমার এই স্বজনহীন জীবনে দেশবাসী আমার স্বজন।’
প্রতিহিংসার শিকার হয়েও কখনো তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন নাই। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর নয়াপল্টনে বিএনপির এক সমাবেশে, ভিডিও বক্তব্যে, তরুণদের আহ্বান করে তিনি বলেন ‘আসুন ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়; ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।’
ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রতিহিংসায় শিকার হয়ে তিনি বিনা অপরাধে নির্জন কারা ভোগ করেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হোন। তবুও মাথা নত করেননি ফ্যাসিবাদের কাছে, অন্যায়ের কাছে।
তার মত আপসহীন, সংগ্রামী মানুষের জন্য হয়তো নজরুল লিখেছেন তার অমর কবিতা,
বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি,
নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর।
মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।