বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু করেছে। এর আগে মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা হ্যান্ডসেটের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
বিটিআরসি জানিয়েছে, এনইআইআর মূলত আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনো কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না বা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না। এর মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ এবং মোবাইল বাজারের বিশৃঙ্খলা দূর করা হবে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের নেটওয়ার্কে ইতোমধ্যেই চালু থাকা সব হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্টার হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা যেসব অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের তালিকা জমা দিয়েছেন, সেগুলোও রেজিস্টার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন যুক্ত হওয়া মুঠোফোনগুলো এনইআইআরের আওতায় আসবে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করা হবে না।
প্রবাসীরা তাদের ব্যবহৃত ফোনসহ সর্বাধিক দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এনইআইআর রেজিস্ট্রেশনের জন্য তাদের তিন মাস সময় দেওয়া হবে, এই সময় হ্যান্ডসেট সচল থাকবে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্রের মাধ্যমে ফোনগুলো এনইআইআরে নিবন্ধন করা যাবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) উপপরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খান জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এনইআইআর চালু হয়ে গেছে। ফোন অবৈধ হলে গ্রাহকের কাছে সিগন্যাল যাবে। তিন মাসের মধ্যে এটি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এখন থেকে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নতুন করে যুক্ত হওয়া যেকোনো আনঅফিশিয়াল বা চোরাই পথে আসা হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও নির্ধারিত সময় পর বন্ধ হয়ে যাবে।
সাধারণ গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই বন্ধ করা হবে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা যেসব ফোনের আইএমইআই (আইএমইআই) তালিকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও সচল থাকবে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, মোবাইল ফোন আমদানিতে ট্যাক্স কমানো হয়েছে। আগে কাস্টমস ডিউটি ছিল ২৫ শতাংশ। এখন তা ১০ শতাংশ করা হয়েছে। দেশে উৎপাদিত ফোনের ট্যাক্স ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।’
সরকারের এই পদক্ষেপে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি আরও বেশি ব্যাপকতা পাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশ থেকে ইউজ মোবাইল ফোন আনা হয়। এনে কিছুটা রিপাবলিশ করে এটা বিক্রি করা হয়। এতে আমাদের ক্রেতা সাধারণ যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারও অনেক ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হয়। আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের চাহিদা বাড়বে এবং এগুলোর দামও কমে আসবে।’
কেকে/ আরআই