ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি লটারিকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেনকে একঘন্টা অবরুদ্ধ রাখেন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সদরে অবস্থিত বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও মো. ফিরোজ হোসেন এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি। লটারির মাধ্যমে ১শত ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় এবং ৩৫ জনকে অপেক্ষায় রাখা হয়।
এ ঘোষণার পর অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা ইউএনও এবং উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে শ্লোগানও দেয়।
অভিভাবকদের দাবি, প্রতিবছর এই বিদ্যালয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়, তবে এ বছর প্রায় ৭০০ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর তুলনায় মাত্র ১০০–১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ইউএনও বিকেল ৫টার মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা কর্মকর্তাদের যেতে দেন। তবে আশানুরূপ সিদ্ধান্ত না এলে তারা আগামী মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সমবেত হয়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল আমিন মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি ব্যস্ত থাকার কারণে পরে কথা বলবেন।
অন্যদিকে ইউএনও মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ৩টি শাখা রয়েছে এবং নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি শাখায় ৫৫ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। অভিভাবকরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে আরও শিক্ষার্থী ভর্তির দাবি করেন, যা মেনে না নেওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তিনি জানিয়েছেন, শাখা বৃদ্ধি করার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।”
কেকে/এলএ