ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে মাগুরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ সিদ্ধান্ত জানান।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত সমর্থন তালিকা জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন একটি স্বাক্ষর তালিকা জমা দেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই তালিকা থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়।
যাচাইয়ে উঠে আসে গুরুতর অনিয়ম। তালিকাভুক্ত ১০ জনের মধ্যে একজন ভোটার ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া সাতজন ভোটার সরাসরি জানিয়েছেন, তারা ওই তালিকায় কোনো স্বাক্ষর দেননি। মাত্র একজন ভোটার তার স্বাক্ষর দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
এছাড়া স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি মোয়াজ্জেম হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদেও বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তিনি হলফনামায় নিজেকে ‘মাস্টার্স পাস’ হিসেবে উল্লেখ করলেও মনোনয়নপত্রের সঙ্গে কেবল ‘অনার্স পাস’-এর সনদ সংযুক্ত করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্যের এই গরমিল ও অসত্য উপস্থাপন নির্বাচন বিধিমালার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এসব অনিয়ম ও তথ্য গোপনের কারণে মনোনয়নপত্রটি আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হয় বলে জানান জেলা প্রশাসক।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহ. শাহনুর জামানের কাছে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং কঠিন নিয়ম।
শেষ পর্যন্ত সেই স্বাক্ষর সংক্রান্ত অনিয়ম ও কাগজপত্রের অসংগতির কারণেই নির্বাচনী দৌড়ে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি তার।
এদিকে মাগুরা-২ আসনে এই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড় আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেকে/ আরআই