হবিগঞ্জের চারটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ২৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে ১৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।
রোববার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে পর্যায়ক্রমে চারটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদ, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই–বাছাই শেষে পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল না করা ও স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা এক শতাংশ ভোটার তালিকা অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী লুকমান আহমদ তালুকদারের এবং অসম্পূর্ণ আবেদন, অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকা ও দলীয় অঙ্গীকারনামা দাখিল না করায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. নোমান আহমদ সাদিকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই–বাছাই শেষে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ আবেদন, যথাযথ স্বাক্ষর না থাকা, তথ্যে গড়মিল ও ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল না করাসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী মো. শাহিনুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই–বাছাই শেষে পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। দলীয় মনোনয়নে গড়মিল থাকায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহ মো. আল আমিন, হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকা, প্রস্তাবকারীর তথ্য অসম্পূর্ণ ও ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ না থাকায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, এক শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা ও দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) মনোনীত প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেন এবং এক শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল ও ব্যাংক হিসাব না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন।
কেকে/এলএ