মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
দেশজুড়ে
এক বছরেও মিলেনি জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন, প্রশ্নের মুখে খানসামার স্বাস্থ্যব্যবস্থা
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে জলাতঙ্ক (রেবিস) রোগ প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট চলায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালসহ বেসরকারি পর্যায়েও ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য পশুর কামড়ে আহত রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ফলে আতঙ্ক, অসহায়তা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়েছে।

ভুক্তভোগী এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তানকে কুকুরে কামড়েছে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই। পরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে খুঁজেও পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভীষণ আতঙ্কে আছি।

আরেক ভুক্তভোগী যোগ করেন, জলাতঙ্ক যে প্রাণঘাতী রোগ, তা সবাই জানে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকাটা আমাদের জন্য ভয়ংকর। জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী শাহরিয়ার পারভেজ, তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোনো সাপ্লাই নেই। কোম্পানি থেকেই সরবরাহ বন্ধ। এ কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে। অনেকেই দোকানে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত। কখনো অল্প পরিমাণে এলেও তা কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই পশুর কামড়ে আহত রোগীরা হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ দিনাজপুর শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ফার্মেসির ওপর নির্ভর করছেন, যেখানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ হলেও এটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য—যদি সময়মতো ভ্যাকসিন নেওয়া যায়। পশুর কামড়ের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন সংকট থাকায় খানসামায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ক্রমেই বেড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের এক বছর পার হয়ে গেছে। এই এক বছরের মধ্যে একবারের জন্যও জলাতঙ্ক রোগের কোনো ভ্যাকসিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাইনি। বিষয়টি নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার জানান, আমি বিষয়টি জানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আমাকে অবহিত করা হয়েছে। আমি আশ্বস্ত করেছি, প্রয়োজন হলে উপজেলা পরিষদের ফান্ড থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত খানসামা উপজেলায় পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সংকট চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close