ঢাকার ধামরাইয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। হঠাৎ এলপিজি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের সংকট এখন চরমে। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাড়তি টাকা দিয়েও সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না ভোক্তারা। নানা দোকান ঘুরেও ফিরতে হচ্ছে হোটেল মালিক, চায়ের দোকানদারসহ বাসাবাড়ির মালিকদের।
খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ২৫৩ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। তবুও ঘুরে ঘুরে দোকান এমনকি ডিলার পয়েন্টেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া লাইনের গ্যাস থাকা বাসাগুলোতেও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
ধামরাইয়ের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের কাছ থেকেই ঠিকমতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে।
পৌরসভার লাকুরিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, “আমি স্নোটেক্স গার্মেন্টসে চাকরি করি এবং এ এলাকায় ভাড়া থাকি। বাড়িতে লাইনের গ্যাস না থাকায় সিলিন্ডার ব্যবহার করি। কিন্তু গত তিন দিন ধরে আশপাশের দোকানগুলো ঘুরেও কোথাও গ্যাসের বোতল পাইনি। রান্না করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ এলাকার সব ভাড়াটিয়াই চরম সমস্যায় রয়েছে। হোটেল থেকে কয়দিন আর খাওয়া যায়?”
ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ স্কুলের সামনে চায়ের দোকানদার আজহার আলী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান করে সংসার চালাই। সিলিন্ডার গ্যাসে চায়ের পানি গরম করি। শুনলাম ১ হাজার ৮০০ টাকা হলে পাওয়া যাবে। কিন্তু ২ হাজার টাকা নিয়েও ঘুরে কোথাও সিলিন্ডার পেলাম না।”
ধামরাই বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী জুলমত আলী বলেন, “শীতের মৌসুমে এমনিতেই ক্রেতা কম থাকে। তার ওপর গ্যাস সংকটে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
পৌরসভার সাবেক মেয়র দেওয়ান নাজিমুদ্দিন মঞ্জু বলেন, “আমরা কখনো এমন গ্যাস সংকটে পড়িনি। হঠাৎ এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বেশি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। লাইনের গ্যাস তো অনেক বাসায় নেইই। কয়েক দিন আগেও ১ হাজার ২৫৩ টাকার সিলিন্ডার গত এক সপ্তাহ ধরে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়।”
ধামরাই পৌরসভার ইসলামপুর এলাকার সব কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাসের ডিলার হারুনার রশিদ বলেন, “শীতকালে বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে দামও কিছুটা বাড়ে। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজ সংকট। শীতে লাইনের গ্যাসের সংকট বাড়ায় সিলিন্ডারের চাহিদা আরও বেড়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশেই একই অবস্থা।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকি না করায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কেকে/এলএ