সুন্দরবনে ডাকাত দলের হাতে জিম্মি থাকা দুই পর্যটক ও একটি রিসোর্টের মালিককে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় মুক্তিপণের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানায়, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটে ভ্রমণের সময় পাঁচজন পর্যটক, এক মাঝি ও রিসোর্ট মালিকসহ মোট সাতজনকে ডাকাত মাসুম মৃধার নেতৃত্বে একটি ডাকাত দল জিম্মি করে। পরে ডাকাতরা তিনজন পর্যটক ও মাঝিকে ছেড়ে দিলেও দুই পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্ট গার্ডকে অবহিত করলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
অভিযান চলাকালে গত ৩ জানুয়ারি ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪) ও মেহেদী হাসান (১৯)-কে গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে আরও এক সহযোগী আলম মাতব্বর (৩৮)-কে আটক করা হয়।
একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনের সময় ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) এবং বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডু (৩০)-কে নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়।
এরপর গত ৪ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ড্রোন সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে জিম্মি থাকা দুই পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, উদ্ধারকৃত পর্যটকদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটককৃত ডাকাত সহযোগীদের থানায় সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটক করতে কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে।
কেকে/এলএ