বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়। এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন, ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংস্কার, জোটের অবস্থা এবং জনআস্থার সংকটের পর এক নতুন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের মুহূর্ত। এই নির্বাচন আবেগ, পক্ষপাতিত্ব কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীতা দিয়ে নয় বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে কঠিন বাস্তব হিসেব দিয়ে বোঝার সময়।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ের পর তার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহনের পর থেকেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনীতিতে তিনটি বড় বলয় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। একদিকে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক ও সংকটগ্রস্ত আওয়ামী লীগ জোট অন্যদিকে সবচেয়ে শক্ত সাংগঠনিক সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তিশালী অবস্থানে থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আর তৃতীয় বলয় হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক আসন ভাগাভাগির জোট। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে সমালোচিত জাতীয় পার্টি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুর্বল অবস্থান নিয়েই নির্বাচনে এসেছে। এই সমীকরণ বুঝতে হলে প্রতিটি জোটকে আলাদা করে বাস্তব চোখে দেখা জরুরি।
আওয়ামী লীগ জোটের আপাতদৃষ্টিতে রাজনৈতিকভাবে কাগজে-কলমে, অনলাইনে কিংবা সোস্যাল মিডিয়ায় হয়তো একটা সংগঠন আছে কিন্তু রাজনৈতিক মাঠের দৃশ্যমান লড়াইয়ে তাদের নেতাকর্মীদের অবস্থান নেই। এছাড়া আস্থা নেই বললেই চলে। আওয়ামী লীগ জোট একটানা প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে দীর্ঘদিন একটানা ক্ষমতায় থাকার কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠনে একসময় সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা এখন পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আত্নগোপনে থাকায় তৃনমূল আছে ভয়াবহ সংকটে এবং রাজনৈতিকভাবেও আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিষ্ঠার পর বর্তমানে সবচেয়ে সংকটময় ও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। দলীয় প্রধানসহ বেশিরভাগ শীর্ষ নেতাই প্রকাশ্যে নেই, অনেকেই দেশ বিদেশে পালিয়ে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় দল চালানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা করছে। তবুও বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটাও সত্য যে, আওয়ামী লীগের এক বড় রিজার্ভ ভোটব্যাংক পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি বা অন্যদলে যোগদান করেনি।
দেশের বেশকিছু এলাকায় এখনো আওয়ামী লীগ দলটির সলিড একটি বিশাল অংশের নিরব ভোটার রয়েছে, যারা কখনো তাদের পছন্দের দল বদলায়নি। বিশেষ করে শেখ হাসিনার নিজ এলাকা গোপালগঞ্জ এবং দক্ষিনাঞ্চলের বেশকিছু জেলা ও দেশের অন্যান্য জেলার যেখানে সৎ, জনপ্রিয় ও তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ জনপ্রতিনিধি বা নেতারা ছিলেন, সেখানে আওয়ামী লীগের আধিপত্য বিস্তার কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ছোট উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি এনসিপির নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করার পর সেনাবাহিনীর ট্যাংক দিয়ে উদ্ধার করার ঘটনা সারা জাতি দেখেছে। কিন্তু এই সময় দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই সংকটময় মুহূর্তে শীর্ষ নেতৃত্বের ফাঁকা জায়গা ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব। এছাড়াও একাটানা কয়েকটি বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত প্রার্থীকে বিজয়ী করে অর্থ, বলয়, প্রভাব ও পেশিশক্তি নির্ভর রাজনীতি করে এবং রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠ দমনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে অন্যান্য প্রতিপক্ষ দল কিংবা সাধারণ জনগণের নিকট ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে নিবন্ধন হারানোর কারণে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট অংশ নিতে পারছে না। স্বতন্ত্র হিসেবেও তাদের সাবেক মন্ত্রী, এমপি বা জাতীয় নেতাদের কেউ প্রার্থী হতে পারেনি। শুধুমাত্র জেতার জন্য নয় বরং অস্তিত্বের প্রশ্নে টিকে থাকার জন্য যে লড়াই করবে সেই সুযোগও আর অবশিষ্ট নেই। বাস্তবতা হচ্ছে দলটি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে পারতো তাহলে এখনো তারা ৫০ থেকে ৬০টি আসনে বিজয়ী হবার প্রভাব ফেলতে পারতো। কিন্তু সরকার গঠনের মত জায়গায় এই মুহূর্তে দলের অবস্থান নেই।
এদিকে বিএনপি জোট বেগম খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ের পর তারেক রহমানের সাথে দেশের সব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কোমল সহানুভূতিশীল অবস্থান ও আপামর সাধারণ জনগণের আস্থা, আবেগ, ভালবাসা ও শ্রদ্ধার বিশ্লেষণে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে বিএনপির দায়িত্বও সবচেয়ে বেশি এই নির্বাচনে। বিজয়ী হবার কিংবা সরকার গঠনের মত বড় সম্ভাবনার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। যদিও দলটি তার জোট মিত্রদের অল্প কয়েকটি আসনে ছাড় দিয়েছে যাদের কেউ কেউ আবার নিজ দল বিলুপ্ত করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পরও আওয়ামী লীগ বিহীন মাঠে দলটি জনসমর্থন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক ভাষায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে পেরেছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি আগের তুলনায় অনেক বেশি আস্থাশীল, সংযত এবং ভবিষ্যতমুখী। বিএনপির বড় শক্তি হলো জন-আকাঙ্ক্ষা। আগের ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি দীর্ঘদিনের জমানো আক্ষেপ, ক্ষোভ, ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশা বিএনপির পক্ষে কাজ করছে। দলের অনলাইন ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা স্পষ্টভাবে বোঝায় যে তারা ক্ষমতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে বিএনপির চ্যালেঞ্জও কম নয়। দলের অনেক অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতা নেই বা নিষ্ক্রিয় কিংবা কোনঠাসা অবস্থায়। ফলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা এবং একটি দক্ষ সাংগঠনিক টিম গড়া এখন বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে যে শক্ত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টিম গড়ে তুলেছিলেন তার ওপর ভর করেই খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পেরেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা বিএনপিকে কাজে লাগাতে হবে। জোট রাজনীতিতে বিএনপি বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছে। এককভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকলেও কিছু আসনে জোটকে ছাড় দেয়া অপরিহার্য ছিল বিধায় অল্প কয়েকজন জোট নেতাদের মনোনয়ন দিয়েছে।
অন্যদিকে এখানেই জামায়াত, এনসিপি, কয়েকটি ইসলামী দলগুলোর ও অন্যান্য শরিকদের অংশগ্রহনের ভূমিকা আসে।
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপি জোট ভোটের মাঠে রয়েছে শক্ত বিরোধী অবস্থানে। যদিও সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এনসিপি ও জামায়াতের এই মুহূর্তে ক্ষমতা প্রায় সুনিশ্চিত বলে তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা প্রচারণা চলছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে দৃশ্যমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে জামায়াতে ইসলামী এখন আর আগের মতো ইসলামী আদর্শিক বিস্তারের জায়গায় নেই। বাস্তবতা হলো, তাদের ভোটব্যাংক সীমিত ও রিজার্ভ, কিন্তু তাদের ভোটারদের মনোবল খুবই দৃঢ়। যারা জামায়াতকে ভোট দেয়, তারা সাধারণত দল বদলায় না। এই শক্ত ভোটব্যাংকের সাথে শেখ হাসিন সরকারের পতনের পর একটা বড় তরুণ ও নারীর অংশ তাদের প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠেছে। এই অতিরিক্ত আস্থা নিয়ে তারা সরকার গঠনের জায়গায় যেতে পারবে বলে মনে করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য ধারণা করছে তারা এই মুহূর্তে সরকার গঠনের মত আসন পাবেনা। তবে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। ইসলামী আন্দোলন ও কতিপয় ছোট বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এবং এনসিপির সঙ্গে জোট গঠন করে জামায়াত আসলে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইছে। এই জোট শুধু ইসলামী রাজনৈতিক জোট হিসেবে নয় বরং সংসদে একটি শক্ত বিরোধী ব্লক তৈরি করতে পারে, যা আগামী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে জামায়াতের দুর্বলতা স্পষ্ট। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে দলটির বিতর্কিত ভূমিকা, সাধারণ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের আবেগী ভোটারের কাছে ও বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা জাতীয় পার্টির ভোটারদের নিকট গ্রহণযোগ্যতার সংকট রয়েছে। জামায়াতের বিএনপিবিরোধী টক্সিক প্রচারণা তাদের লাভের চেয়ে ক্ষতি করেছে বেশি। তাদের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দীর্ঘ দুই যুগের মিত্র বিএনপিকে ঘিরে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, স্লোগান ও সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভাঙেনি বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। জামায়াত যদি ভাবে বিএনপি বিরোধী বড় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা জোট করে ধীরে ধীরে বিএনপিকে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করবে বা কোণঠাসা করবে, তাহলে সেটি ভুল হিসাব। বরং এই জোট গঠনের মাধ্যমে তাদের সীমাবদ্ধতাই বেশি স্পষ্ট হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে হলে জামায়াতকে তাদের বক্তৃতার ভাষা ও আচরণে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।
আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে সমালোচিত জাতীয় পার্টি আগেই অনেক ভাগে বিভক্ত। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটি বড় দু’ভাগে আবার বিভক্ত হয়ে গেছে। প্রান্তিক এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আর আগের মতো ভারসাম্য রক্ষাকারী বা বিএনপি কিংবা জামায়াতের নিকট প্রয়োজনীয় দল হিসেবে তুলনা করার শক্ত অবস্থানে নেই। দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। এর ফলে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংক দুটোই ভাগাভাগি হয়ে আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্বল হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের কিছু আসনে তারা প্রভাব ফেলতে পারলেও জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখার অবস্থায় নেই।
এবারের নির্বাচন হবে বহুমাত্রিক এইসব রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাস্তবতা মিলিয়ে ও নানান নাটকীয়তায়। একটি বিষয় খুব পরিষ্কার, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একতরফা হবার সম্ভাবনা নেই। কোথাও বিএনপি স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকবে, কোথাও আওয়ামী লীগের সলিড ভোটগুলো প্রার্থী বিজয়ী করার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে আবার কোথাও জামায়াত-এনসিপি জোট এগিয়ে থেকে শক্ত বিরোধী হিসেবে উঠে আসবে। প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি আসনে শেষ মুহূর্তের হিসেব এবার ফল নির্ধারণ করবে।
সবশেষে বলা যায়, এই নির্বাচনে কোন দল বা জোট ক্ষমতায় যাবে সেই প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো, কে সবচেয়ে দায়িত্বশীল, বিশ্বাসযোগ্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় উপযুক্ত শক্তি হিসেবে নিজেদের দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের নিকট প্রমাণ করতে পারবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে ঘিরে জনমনে উচ্ছ্বাস ও জয়ের প্রত্যাশা এখন সবচেয়ে বেশি। জামায়াত-এনসিপি জোটের সামনে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ স্পষ্টত প্রতীয়মান। আর আওয়ামী লীগ জোটের সামনে রয়েছে আত্মসমালোচনা ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে শেষ কথা বলবে ভোটার। আর ভোটারের রায় নির্ভর করবে আগামীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কে আমাদের বাস্তববাদী রাজনীতি, সংযত ভাষা এবং স্মার্ট দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে সেই হিসেবের ওপর।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ, ডীন ও চেয়ারম্যান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
কেকে/ আরআই