জয়পুরহাটে কালাইয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে।
সূর্যের আলোর অভাবে চারা খাদ্য তৈরি ও শিকড় বাড়াতে না পারায় এবং শিশিরের পানি ও লবণাক্ততায় গোড়া পচে এমনটি হচ্ছে। তবে কৃষকরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করে বীজতলা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ফসলের মাঠে চাষিরা জমিতে বোরো মৌসুমের জন্য বিভিন্ন জাতের ধান বীজ বপন করেছেন। ঘন কুয়াশায় চারা বাঁচাতে অনেকেই পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। গত এক সপ্তাহে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় অনেক বীজতলার চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের কৃষক আলী আনছার বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা আর তীব্র ঠান্ডার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদি এ ধরনের আবহাওয়া আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকে, তাহলে ধানের বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।”
এ উপজেলার আরেক কৃষক আনোয়ারুল হক মামুন বলেন, “তীব্র ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার কারণে চারার আগাগুলো হলুদবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে লম্বা লাঠি দিয়ে চারার ওপর নাড়া দিয়ে শিশিরগুলো ফেলে দিই। তারপরও যদি এমন ঘন কুয়াশা আরও কিছুদিন থাকে, চারাগুলো শুকিয়ে যেতে পারে। ফলে অনেক কৃষক এখন বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।”
এ বিষয়ে কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, “তীব্র শীত ও কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলায় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। অনেক চারা হলুদবর্ণ হয়ে যায়। ছত্রাক আক্রমণ করে চারা শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কৃষকদের পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সকালে বীজতলার ঠান্ডা পানি পরিবর্তন করে দিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া লম্বা লাঠি দিয়ে চারার ওপর জমে থাকা শিশিরগুলো ফেলে দিতে বলা হয়েছে। তীব্র কুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
কেকে/এলএ