মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
১১ দলের নির্বাচনি ঐক্য, ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে হ য ব র ল
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৭ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে- ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে নির্বাচনি ঐক্যের উদ্যোগ নেয় ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি ইসলামী দল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল- ইসলামপন্থি ভোট বিভক্ত না করে একটি প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত করা, যাতে নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।

শুরুর দিকে এই আলোচনায় কয়েকটি দল থাকলেও পরবর্তীতে এতে যুক্ত হয় জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি দল। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এতে করে ১১ দলের একটি বৃহৎ নির্বাচনি ঐক্যের তৈরি হয়।

তবে ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে এই ঐক্য সংগঠিত হলেও এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- আসন বণ্টন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে, এই দর কষাকষিতেই আটকে আছে পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়া। 

সূত্র বলছে, শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামী নিজেদের জন্য প্রায় ১৯০টি আসন ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব দেয় দলটি। এই প্রস্তাবের মাধ্যমেই সমঝোতার টেবিলে শুরু হয় অস্বস্তি। এরমধ্যে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি ইসলামী আন্দোলনকেও প্রথম ধাপে মাত্র ৩৫টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হলে দলটির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে টানা দরকষাকষির পর ৫০টি আসন ছাড় দেওয়ার আলোচনা সামনে এলেও ইসলামী আন্দোলন তা নিয়ে অসন্তোষ জানায়। 

ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, অন্তত ৮০টি আসনে তাদের সাংগঠনিক শক্ত অবস্থান রয়েছে, সে তুলনায় ৫০টি আসনের প্রস্তাবকে তারা ‘অসম্মানজনক ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়েছেন। এ অবস্থায় দুই দলের মধ্যকার আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটাকে জামায়াতের ‘মোড়লগিরি’ হিসেবে দেখেছেন। 
অন্যদিকে সমঝোতায় নতুন করে যুক্ত হওয়া এনসিপির ক্ষেত্রেও আসন বণ্টন এখনো অনিশ্চিত। 

সূত্রমতে, শুরুতে এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এসে সেই সংখ্যা নেমে আসছে ১০টির নিচে। ফলে দলটির বেশ কয়েকজন আলোচিত নেতা মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় পড়েছেন। এতে করে এনসিপির ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং দলটির নেতৃত্বও নতুন করে চাপের মুখে পড়ছে। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জোটের অন্য ছোট দলগুলোর ক্ষেত্রেও। প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় তাদের মধ্যেও এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ওয়ান বক্স’ নীতি শুরুতে যতটা আন্তরিক ছিল, এখন তা ততটাই জটিল হয়ে উঠছে। তাদের মতে,  এই ঐক্য এখন আর শুধু ভোট এক বাক্সে আনার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই, এখানে নিয়ন্ত্রণ ও মোড়লগিরির দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে।

তাদের ভাষ্য, জামায়াতের এককভাবে ১৯০ আসন দাবি করার বিষয়টি অন্য দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। এতে করে ইসলামী আন্দোলনসহ বাকি দলগুলো নিজেদের সহযোগী নয়, অনুগত হিসেবে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করছে। ফলে আসন বণ্টনে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত না হলে ‘ওয়ান বক্স’ নীতি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছেও ভুল বার্তা দেবে।

এ প্রসঙ্গে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত আসন সমঝোতার ব্যাপারে কথাবার্তা হচ্ছে। কিছু কিছু আসনে ইতোমধ্যে জামায়াতের প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাদের প্রার্থীদেরকে ছাড় দিয়েছেন এবং আমাদের প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের এক ধরনের সমন্বিত কাজ হচ্ছে ওই সকল আসনে। যেহেতু অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যাবে, তখন আমার ধারণা জোটের সকল শরিক একসঙ্গে এক মার্কার জন্য প্রচারণা চালাবে। তখন এই বিভ্রান্তি বা এই প্রশ্ন কেটে যাবে।

অন্যদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন বলেছেন, সংগঠন যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেই সিদ্ধান্তের ওপর আমরা কিন্তু অটল থাকি। যেদিন আমাকে আমার সংগঠন বলল, এই আসনটা আমরা জোটকে ছেড়ে দেবো, আমি নির্দ্বিধায় এটা মেনে নিয়েছি। আমরা যাকে প্রার্থী করেছি, তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে আমি গিয়েছি এবং উনাকে আমি সহযোগিতা করব।

মোবারক হোসাইন বলেছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর বুঝা যাবে কে থাকবে, থাকবে না। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব, যে জোটটা আমরা করেছি সেই জোটটার মাধ্যমে আমরা যেন নির্বাচনটা সম্পন্ন করতে পারি। এতে জামায়াতের যদি কিছু ছাড় দিতে হয়, তা দেবে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ১১ দল   নির্বাচনি ঐক্য   ওয়ান বক্স নীতি   হ য ব র ল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close