ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এমএ খালেক ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধানকে বিজয়ী করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার তেজখালী হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা জানান। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ৬ জানুয়ারি তার বৈঠকের পর থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জল্পনা চলছিল।
গত মঙ্গলবারের বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ নতুনভাবে শুরু হয়।
এমএ খালেক জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তাকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তার প্রতি সম্মান দেখিয়েই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি জানান, দেশের স্বার্থে আমাকে ত্যাগ স্বীকার করতে বলেছেন তারেক রহমান। তিনি খুব বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি আমাকে সম্মানজনক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জানান, জুনায়েদ সাকিকে আমাদের সংসদে পাঠালে আমাদেরই লাভ। তিনি আগামী দিনে মন্ত্রী হতে পারেন। তিনি অনেক ডায়নামিক। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের বাইরে আমি যেতে পারবো না। তিনি কথা দিয়েছেন, আমার বহিস্কার আদেশ তুলে নিয়ে পরবর্তীতে সম্মানজনক পদ দিবেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এমএ খালেক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন এবং এর কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে মেহেদী হাসানের মনোনয়ন বাতিল হয়।
এ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাঈদ উদ্দিন খান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. সফিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবু নাসের, স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মো. সাইদুজ্জামান কামাল, গণসংহতি আন্দোলনের মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর কে এম জাবির ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মো. মহসীন।
কেকে/ আরআই