প্যাকেজিং প্লাস্টিক ও পলিথিন মুক্ত পূর্বাচলের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সরকারী ছুটির দিন শনিবার দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এ আসরে হরেক পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানি এবং ক্রেতা-বিক্রেতার মিলন মেলা হিসেবে পরিণত হয়েছে।
তবে সব পণ্যের দাম বাড়তি রাখার অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা।
মেলা সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচলের ৪নং সেক্টরে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর ঘিরে চলছে নানা ছাড়ের অফার। কেউ ৩০% কেউ ২০% ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিগুলো।
মেলায় আসা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুটির শিল্প পণ্যের বিক্রয়কর্মী তুলি বলেন, “মেলার প্রথম সপ্তাহে বিক্রয় কম ছিল, সরকারী ছুটির দিন থাকায় গতকাল শুক্রবার বিক্রির পাশাপাশি লোকবল ছিল আশানুরূপ। তবে আজ খুব একটা নেই। যেহেতু মাসব্যাপী মেলা, আমরা আশাবাদী।”
এবার মেলায় প্রবেশে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবেশ দেখা গেছে। বিশেষ করে যারা ঢাকা থেকে সরাসরি ৩শ ফুট সড়ক হয়ে মেলায় প্রবেশ করেছেন তাদের কোন যানজট পোহাতে হয়নি। তবে ঢাকা বাইপাস সড়কে নির্মাণ কাজ চলায় কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে।
জেএমজি ফার্নিচারের স্টল ম্যানেজার সাইফ আহমেদ বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণার কারণে মেলা ৩ দিন পরে শুরু হয়েছে। আমরা সরকারী ছুটির দিনগুলোর অপেক্ষায় ছিলাম। প্রদর্শনীকে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। বিক্রয় হলো বাড়তি পাওয়া। তবে মেলা উপলক্ষে ১৫% পর্যন্ত ছাড় চলছে।”
মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ৭ শতাধিক পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী। ফলে আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও হকারদের উৎপাত দেখা গেছে।
মেলার পরিচালক ও ইপিবি সচিব তরফদার সোহেল বলেন, “বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের স্থান করে নিতে বাণিজ্য মেলার আসর বসে থাকে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান যাচাই, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে মেলা কাজ করছে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে কোম্পানিগুলো ছাড় দিচ্ছে।”
মেলায় ঘুরতে আসা সরকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, “দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য এ মেলায় শোভা পায়। তবে বিদেশী পণ্যের দাম কিছুটা বেশি।”
মেলা সূত্র জানায়, এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। তবে রূপগঞ্জ উপজেলার উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
কেকে/এলএ