কুমিল্লা-৫ আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও, জামায়াতে ইসলামীকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নির্বাচন যতই সামনে আসছে, ততই এই আসনের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থা কার দিকে ঝুঁকে পড়ে, সেটিই নির্ধারণ করবে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের ভবিষ্যৎ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে রাজনীতির মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ঐতিহাসিকভাবে এই আসনটি বিএনপি’র অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র সাংগঠনিক কাঠামো, আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহ্য ও ভোটব্যাংক এই আসনে দলটিকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে এসেছে। তবে এবারের নির্বাচন ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হাজী মো. জসিম উদ্দিন তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের। বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনীতির প্রতি এখানকার একটি বড় অংশের ভোটারের আবেগ ও রাজনৈতিক আনুগত্য এখনো দলটির বড় শক্তি কিন্তু এবারের নির্বাচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির মনোনীত প্রার্থী ডক্টর মোবারক হোসাইনকে ঘিরে কুমিল্লা-৫ আসনে একটি সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত রাজনৈতিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সারাদেশে জামায়াতের সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও সমর্থনের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ এই আসনেও এসে লেগেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের প্রচার-প্রচারণায় স্পষ্ট পার্থক্য চোখে পড়ছে।
বিএনপি তাদের পরিচিত রাজনৈতিক কৌশল অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ, কর্মীসভা, পথসভা ও সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা তাদের প্রচারণার মূল সুর।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে ‘ইউনিক’ ও শালীন প্রচার কৌশল গ্রহণ করেছে। সীমিত আকারের মতবিনিময় সভা, শিক্ষিত ও তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় প্রচারণা এবং সুশাসন ও ইসলামী নৈতিক রাজনীতির বার্তা দিয়ে দলটির নিজস্ব অবস্থান জোরালো করছে। এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একদিকে বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও আন্দোলনের ইতিহাস, অন্যদিকে জামায়াতের শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন ও ভিন্ন রাজনৈতিক বয়ান—এই দুই ধারার মধ্যেই ভোটাররা তুলনা করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় শক্তির পরীক্ষা নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশল ও গ্রহণযোগ্যতারও বড় পরীক্ষা।
কেকে/বি