সাতক্ষীরায় তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়ার কারণে শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক মাসে সাতক্ষীরা সদর ও শিশু হাসপাতালে সাড়ে তিন শতাধিক শিশু কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
ঘরের বাইরে না নেওয়ার পাশাপাশি ফুটানো পানি ও শুষ্ক খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে আবহাওয়া ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ব্যতিক্রম দেখা দিচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কোল্ড ডায়রিয়ায় ২৫০ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন।
এর মধ্যে সাতক্ষীরা উপজেলার বড়দল গ্রামের গৃহবধু হেলেনা খাতুনের তিন মাস বয়সের শিশু পুত্র হামজালাকে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই উপজেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধু জবা খাতুন তার সাত মাস বয়সের শিশু পুত্র আজমীর হোসেন এবং বাউখালী গ্রামের রেশমা খাতুনের ১৪ মাস বয়সের শিশু মেয়ে ফারিয়াকে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় ৩ জানুয়ারি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এসব ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের মায়েরা জানিয়েছেন, তীব্র শীতের কারণে তাদের শিশুরা প্রথমে পাতলা পায়খানা ও পরবর্তীতে বমি করছে। বারবার এই লক্ষণ দেখা গেলেও পরিবর্তন না হলে তারা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বলে জানান।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক রিয়াদ হাসান জানিয়েছেন, এমন তীব্র শীতে শিশুদের ঘরের বাইরে না বের করার পাশাপাশি তাদের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের কাছাকাছি অন্য শিশুদের না রাখার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরার একমাত্র বেসরকারি শিশু হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক আবুল বাসার জানিয়েছেন, সম্প্রতি কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু বেড়েছে তার হাসপাতালে। ১ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০২ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুদের ঠান্ডা লাগা রোধের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মো. সামছুর রহমান জানিয়েছেন, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের নানা প্রকার শীতজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে। এসময় অভিভাবক বা মায়েদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে শিশুদের ঠান্ডা না লাগে। এছাড়া ফুটানো পানি ও শুষ্ক খাবার খেতে দিতে হবে। শীত কমে না যাওয়া পর্যন্ত শিশুদের ঘরের বাইরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন জানান, গত দুই-তিন বছর ধরে সাতক্ষীরা অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মূলত আবহাওয়ায় এমন পরিবর্তন ঘটছে। বর্তমান যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে, তা দু-এক দিনের মধ্যে আরও কমে আসবে বলেও জানান তিনি। এজন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেকে/এলএ