সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
কার্বন ক্রেডিট ও বাংলাদেশের অর্থনীতি : বিএনপির আগামীর রাষ্ট্রভাবনা
শেখ রিফাদ মাহমুদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫১ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির মানচিত্র যখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য কেবল টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ নয়; সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। বিশ্বজুড়ে এখন আর শুধু পণ্য বা সেবা বাণিজ্যের কথা হচ্ছে না, আলোচনার টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে ‘জলবায়ু কূটনীতি’ বা ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি। উন্নত বিশ্ব যখন কার্বন নিঃসরণ কমানোর চাপে দিশাহারা, ঠিক তখনই আমাদের সামনে খুলে গেছে এক নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত। যার নাম ‘কার্বন ক্রেডিট’। এটি এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে পরিবেশ রক্ষা করাটা কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রীয় আয়ের এক বিশাল উৎস হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন বলছে, বাংলাদেশ চাইলে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজার থেকে বছরে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অপার সম্ভাবনা থাকার পরেও আমরা এই খাতের কানাকড়িও ঘরে তুলতে পারিনি। তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে যুগান্তকারী ‘৩১ দফা রূপরেখা’ ঘোষণা করেছে, তা একটি আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং টেকসই অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার রোডম্যাপ। বিএনপি আগামীর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সামনে এনেছে, তাতে এই ‘সবুজ অর্থনীতি’ বা গ্রিন ইকোনমিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে পরিবেশ ও অর্থনীতিকে এক সুতায় গাঁথার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে একটি আধুনিক ও পরিণত রাষ্ট্রচিন্তার বহির্প্রকাশ।

বাংলাদেশে কার্বন বাণিজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল বিএনপির শাসনামলেই। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার যখন নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ (IDCOL)-কে শক্তিশালী করে, তখনই মূলত ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (CDM)-এর যাত্রা শুরু হয়। ২০০৬ সালে ইডকল (IDCOL) জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (UNFCCC)-এর অধীনে বিশ্বের অন্যতম সফল সোলার হোম সিস্টেম (SHS) প্রকল্প নিবন্ধন করে। সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ, ইডকল আজ পর্যন্ত ২.৫৩ মিলিয়ন কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে ১৬.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৯০ কোটি টাকা) আয় করেছে । এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তারা কেবল সাময়িক উন্নয়ন নয়, দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই আয়ের পথ তৈরি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ছিল পরিবেশ সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনার এক ঐতিহাসিক ‘গ্রিন ডিল’, যা আজকের আধুনিক জলবায়ু অভিযোজন কৌশলেরই নামান্তর। কার্বন ক্রেডিটের ধারণাটি সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা তাত্ত্বিক মনে হতে পারে, কিন্তু এর অর্থনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত বাস্তবিক। সহজ কথায়, উন্নত দেশগুলো বা বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তাদের শিল্পায়নের ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়ায়, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা কার্বন ক্রেডিট কিনতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, আমাদের মতো দেশগুলো যদি কার্বন নিঃসরণ কমায়, বনায়ন বাড়ায় বা কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তবে আমরা সেই ‘বাঁচানো কার্বন’ সার্টিফিকেট আকারে তাদের কাছে বিক্রি করতে পারি। এটি কোনো ভিক্ষা বা অনুদান নয়; এটি আমাদের পরিবেশগত সেবার বিনিময়ে অর্জিত ন্যায্যমূল্য।

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিটের জন্য একটি ‘স্বর্ণখনি’ হতে পারে। আমাদের রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, উর্বর কৃষি জমি এবং বিশাল উপকূলীয় এলাকা। অথচ, গত এক দশকে আমরা এই খাত থেকে আয় করেছি মাত্র ১৬-১৭ মিলিয়ন ডলারের মতো। যেখানে সম্ভাবনা ১ বিলিয়ন ডলারের, সেখানে এই প্রাপ্তি নিতান্তই নগণ্য। এর মূল কারণ হলো বিগত সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শিতার অভাব এবং নীতিগত অস্পষ্টতা। জলবায়ু পরিবর্তনকে আমরা কেবল ‘দুর্যোগ’ হিসেবে দেখেছি এবং বিদেশিদের কাছে ত্রাণের জন্য হাত পেতেছি। কিন্তু এই সংকটকেই যে শক্তিতে রূপান্তর করে বাণিজ্যের হাতিয়ার করা যায়, সেই স্মার্ট চিন্তাটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনুপস্থিত ছিল। আন্তর্জাতিক মানের মনিটরিং, রিপোর্টিং ও ভেরিফিকেশন (এমআরভি) কাঠামো তৈরি না করায় এবং স্বচ্ছতার অভাবে বিশ্ববাজারে আমাদের প্রকল্পগুলো গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ফলে আমরা হারিয়েছি বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা, যা দিয়ে হয়তো আমাদের পদ্মা সেতু বা মেট্রো রেলের মতো আরও অনেক প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নেই করা সম্ভব হতো।

বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি বরাবরই ছিল গ্রাম এবং কৃষক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ছিল পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থাপনার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে চেয়ারম্যান তারেক রহমান কৃষি ও পরিবেশকে আধুনিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন। এখানে কার্বন ক্রেডিটের প্রসঙ্গটি কৃষকদের ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। আমাদের দেশে ধান চাষে প্রচলিত পদ্ধতিতে জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমিয়ে রাখা হয়। এতে মাটির নিচ থেকে প্রচুর মিথেন গ্যাস নির্গত হয়, যা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়েও বহুগুণ বেশি ক্ষতিকর। কিন্তু যদি ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’ (অডউ) বা পর্যায়ক্রমে ভিজা ও শুকানো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তবে মিথেন নিঃসরণ প্রায় অর্ধেক কমে যায়। বিএনপির আগামীর পরিকল্পনায় এই প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। যদি বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে এবং কৃষকদের মাঝে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারে, তবে এর ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, সেচের পানি কম লাগায় কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে। দ্বিতীয়ত, মিথেন গ্যাস কমানোর কারণে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ক্রেডিট তৈরি হবে, তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে রাষ্ট্র বৈদেশিক মুদ্রা আয় করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই আয়ের একটি অংশ সরাসরি কৃষকের উন্নয়নে যাবে। অর্থাৎ, আমাদের কৃষক ভাইটি শুধু ধান বিক্রি করেই আয় করবেন না, তিনি তার জমির ‘পরিবেশবান্ধব সেবা’ প্রদানের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখার ২৯ ও ৩১ নম্বর দফায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রথম পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগাবে। এই ঘোষণাটিকে নিছক একটি পরিবেশবাদী স্লোগান ভাবলে ভুল হবে। এর পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক হিসাব। এই ২৫ কোটি গাছ যখন বড় হবে, তখন তা বায়ুমণ্ডল থেকে মিলিয়ন টন কার্বন শোষণ করবে। এই শোষিত কার্বন ‘ফরেস্ট্রি কার্বন ক্রেডিট’ হিসেবে বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রিযোগ্য। উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে ‘ব্লু-কার্বন’ ইকোনমির যে দ্বার উন্মোচিত হবে, তা বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের জীবনমান বদলে দিতে পারে। পাশাপাশি, জ্বালানি খাতের সংস্কারেও বিএনপির ভাবনায় আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। বিগত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে পরিবেশ বিধ্বংসী জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং সীমাহীন দুর্নীতি। এর বিপরীতে বিএনপি জোর দিচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা কেবল পরিবেশই রক্ষা করবে না, বরং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে কার্বন ক্রেডিট অর্জনে সহায়তা করবে। পোশাকশিল্প বা টেক্সটাইল খাতে যারা পরিবেশবান্ধব কারখানা (গ্রিন ফ্যাক্টরি) গড়বে, তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং কার্বন বাণিজ্যের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করবে। বিএনপির এই বাজারভিত্তিক অর্থনীতি ও বেসরকারি খাতের বিকাশের দর্শন কার্বন ট্রেডিংয়ের মূল স্পিরিটের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ এতদিন নিজেকে ‘জলবায়ু ভুক্তভোগী’ বা ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছে। আমরা বিশ্বের কাছে কেবল ক্ষতিপূরণ চেয়েছি। কিন্তু বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি ও জলবায়ুবিষয়ক বক্তব্যে একটি প্যারাডাইম শিফটের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তারা বাংলাদেশকে ভুক্তভোগীর পাশাপাশি ‘সমাধানদাতা’ বা সলিউশন প্রোভাইডার হিসেবে দেখতে চান। আমরা যদি আমাদের কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পৃথিবীকে বাঁচাতে সাহায্য করি, তবে পৃথিবী তার ন্যায্যমূল্য দিতে বাধ্য থাকবে। এটি ভিক্ষা নয়, এটি ব্যবসা। বিশ্বব্যাংকের ‘কান্ট্রি ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’ অনুযায়ী, কার্বন মার্কেট থেকে বাংলাদেশের বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই আয়ের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা এবং সুশাসন। বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি এবং ডেটা ম্যানিপুলেশনের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশের কার্বন প্রজেক্টে বিনিয়োগে আস্থা হারিয়েছে।

বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায় এবং কার্বন ট্রেডিংয়ের জন্য একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ কর্তৃপক্ষ গঠন করতে পারে, তবে তা হবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর জন্য প্রয়োজন আইনি কাঠামোর সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন। বিগত সময়ে দুর্নীতির কারণে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বিএনপির ৩১ দফায় সুশাসন ও জবাবদিহিতার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেতারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান তৈরি হবে লাখ লাখ তরুণের। বিশেষ করে পরিবেশ অডিট, কার্বন অ্যাকাউন্টিং এবং গ্রিন টেকনোলজির মতো নতুন নতুন পেশায় আমাদের তরুণরা যুক্ত হতে পারবে। রাজনীতি মানে এখন আর শুধু গৎবাঁধা বক্তৃতা বা প্রতিপক্ষের সমালোচনা নয়। রাজনীতি মানে হলো সময়ের প্রয়োজনকে বুঝে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বন অর্থনীতি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে না। বিএনপি তাদের নীতিমালায় এই আধুনিক সত্যটিকে ধারণ করেছে, যা তাদের রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের যে স্বপ্ন বিশ্বব্যাংক আমাদের দেখিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন একটি ভিশনারি নেতৃত্ব এবং সঠিক পরিকল্পনা। কার্বন ক্রেডিটকে কেবল পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে না দেখে, একে জাতীয় আয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার যে ভাবনা বিএনপি পোষণ করে, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। কৃষি থেকে শিল্প, গ্রাম থেকে শহর; সর্বত্রই এর সুফল ছড়িয়ে পড়বে। পতিত সরকারের ‘লুটেরা মডেল’ দেশকে ঋণের ফাঁদে ফেলেছে, আর বিএনপির ‘উৎপাদনমুখী ও টেকসই মডেল’ দেশকে আয়ের নতুন উৎস দেখাবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে শহরের বর্জ্য হবে বিদ্যুতের উৎস, গ্রামের কৃষক হবে কার্বন বিক্রেতা, এবং রাষ্ট্র ভিক্ষা নয়, কার্বন রপ্তানি করে মাথা উঁচু করে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াবে। বিএনপির নেতৃত্বে, ধানের শীষের হাত ধরেই আসবে এই সবুজ বিপ্লব।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে আমাদের কৃষকরা হবেন জলবায়ু যোদ্ধা, আমাদের শিল্পগুলো হবে পরিবেশবান্ধব, এবং আমাদের রাষ্ট্রনেতারা বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে ত্রাণের জন্য হাত পাতবেন না বরং গর্বের সঙ্গে নিজেদের অর্জন তুলে ধরবেন। বিএনপির পরিবেশ ও অর্থনীতিবিষয়ক এই ‘গ্রিন ব্লু-প্রিন্ট’ বা সবুজ রূপরেখা সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হতে পারে। এখন প্রয়োজন কেবল জনগণের রায় এবং এই মহাপরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন। ধানের শীষের দল যদি তাদের প্রতীক ‘ধান’ চাষের আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির প্রবাহ বাড়াতে পারে, তবে তা হবে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

লেখক : ভিপি, কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  কার্বন ক্রেডিট   বাংলাদেশ   অর্থনীতি   বিএনপি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close