তীব্র শীতের মধ্যে মা হারানো ১৩টি কুকুরছানা যখন খাবার, আশ্রয় ও স্নেহহীন অবস্থায় কাঁপছিল, তখন মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার এক কাঠ ব্যবসায়ী।
কাপাসিয়া বাজারের কাঁচা বাজার এলাকায় মাতৃহারা কুকুরছানাগুলোর দেখভাল করতে দেখা যায় রুবেল মিয়াকে। তিনি উপজেলার খোদাদিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।
রুবেল মিয়া খোলা কাগজকে জানান, স্থানীয় লোকজন দুইটি মা কুকুরকে হত্যা করার পর ছানাগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। গত একমাস ধরে ১৩টি কুকুর ছানাকে নিজের বাড়ীতে এনে দেখভাল করেছি। ‘ওরা ভাত, মাছ-মাংস খায়। প্রায় এক মাস বয়স হওয়ার পর গত পড়শু সাতটি ছানা বাজারে নিয়ে এসেছি। এগুলো গাছের নিচে থাকে। আমি প্রতিদিন এসে খোঁজ নেই। কীভাবে আরও ভালো ব্যবস্থা করবো, সেটাই ভাবছি।’ বাড়ীতে আরো ৬ টি আমার কাছে রাখা হয়েছে। সবগুলোর খাবার যোগান দিতে পারছিনা বলে ৭ টি বাজারের এলাকায় নিয়ে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার লোকজন মা কুকুর দুইটা মেরে ফেলেছে বলে শুনেছি। কে বা কারা এই কাজ করেছে তা নিশ্চিত নই। আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো—ছোট ছোট কুকুরছানা রেখে যেন কেউ মা কুকুরকে হত্যা না করে।’
স্থানীয় বাবুর্চি মিলন মিয়া জানান, ‘রুবেল রাতে বাড়ি চলে গেলে আমি ছানাগুলোর শীত থেকে রক্ষার জন্য পাটের ছালা দিয়ে ঢেকে দেই। এতে ওরা একসাথে জড়ো হয়ে উষ্ণতায় ঘুমাতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমার বাড়িতে দুইটি কুকুর আছে। নিয়মিত খাবার দেই। তারা বাড়ি পাহারা দেয়। রাতে চোর-ডাকাতের ভয় থাকে না। গৃহপালিত পশু-পাখিও নিরাপদ থাকে।’
কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এই ৭টি কুকুরছানাকে খাবার দিচ্ছি। এখন ওরা ভালো আছে, একসাথে মিলেমিশে থাকে।’
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আতিকুর রহমান খোলা কাগজকে বলেন, ‘মা কুকুর হত্যার ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে প্রাণি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালিকবিহীন বা পথকুকুর—কুকুরছানাসহ—মেরে ফেলা বা অপসারণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’
কেকে/ এমএস