রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ভূরুঙ্গামারীতে গুদাম ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা      পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন      বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল      ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা      সাংবিধানিক নিয়মেই হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী      বঙ্গভবনে উঠেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি      নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
প্রতিবন্ধী হয়েও করছে ব্যবসা, ধরেছে সংসারের হাল
রোকন উদ্দিন, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪২ পিএম

পরিবারের উদাসীনতা ও দারিদ্র্যতা শারীরিক প্রতিবন্ধী করেছে সেলিম মিয়া কে, জন্মের পরেই অকেজো হয়ে পড়ে দুই পা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি তিনি। মানুষের কাছে হাত না পেতে গড়ে তুলেছেন বাড়ির পাশে মুদি দোকান এই দোকানে বসে বিভিন্ন ধরনের পণ্য  বিক্রি করে চলছে তার সংসার।  

সেলিম মিয়া (২৮) তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে, মা ভাই কে নিয়া তার সংসার, প্রতিবন্ধতার কারণে পড়াশোনা করতে পারেনি। তার মুদি দোকানের উপার্জনে চলছে মা ও ভাইকে নিয়ে তিন জনের সংসার। 

শারীরিক প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধী দেখে কারো কাছে হাত পেতে সহযোগিতা চাইতে আমার লজ্জা লাগে। তাই যতটুকু ছিলো সবটুকু সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে কিছু করার আগ্রহ থেকে এই ব্যবসায় নেমেছি। প্রথমে অল্পটাকা দিয়ে শুরু করলেও আস্তে আস্তে আমার মুদি মালের দোকান বড় হচ্ছে। এখন মোটামুটি দিনে ৫০০ টাকার মতো আমি আয় করতে পারি,আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে আয় কিছুটা কম হলেও ভালোই যাচ্ছে। যদি সরকার থেকে সহযোগিতা পেতাম তাহলে হয়তো দোকানটা আরেকটু বড়ো করতে পারতাম।

তাহিরপুর উপজেলা সামাজিক ব্যাক্তিত্ব নাসের উজ্জল  বলেন, সেলিম সমাজের অন্য অক্ষম-প্রতিবন্ধীদের জন্য উদাহরণ। নিজেই উদ্যোক্তা হয়েছেন। বাড়ির পাশেই নিজে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করছেন, তার এই বিষয়টি আমাদের ভালো লেগেছে, ৫-৬ বছর ধরে দেখছি সে মুদি দোকান দিয়েছে  বিষয়টি আমাদের খুব ভালো লাগে। তাদের তিন জনের সংসারের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। আল্লাহর রহমতে ও সকলের সহযোগিতায় এভাবেই তার জীবন চলে যাচ্ছে। 

সেলিমের প্রতিবেশী আহাদুল বলেন, সেলিমের মুখটা মায়ায় ভরা। খুব ভালো ছেলে। মা- ভাইকে নিয়ে তার সংসার, এই মুদি দোকান দিয়ে তার সংসার চলে, সততার মাধ্যমে দীর্ঘদিন  ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে। আমাদের কোন কিছু প্রয়োজন হলে বাজারে না গিয়ে তার দোকান থেকে কিনে আনি, এতে আমাদের সময় বাঁচে অনেক, তার দোকানে সব সময় থেকে ভালো জিনিস পাওয়া যায়। সেলিম একদিন অনেক বড় ব্যবসায়ী হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা। 

তাহিরপুর সদর  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজের বোঝা নয়, তারাও আমাদের সম্পদ। মেধা, সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে তারাও সফল হতে পারে। সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সেলিম মিয়া। সে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পায়। তবে এতে যেহেতু সংসার পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই সে বাড়ির পাশেই মুদি দোকান চালায়। সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদানে সেলিম মিয়ার মতো মানুষদের অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়ে থাকে।

তাহিরপুর সমাজসেবা অফিসার মোঃ সাব্বির সারোয়ার বলেন, সেলিম মিয়া সে প্রতিবন্ধী হলেও তার কর্ম এবং মেধা দিয়ে  ব্যতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ব্যাবসা করে সংসারের হাল ধরেছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে আরও অনেক ক্ষেত্রে সহয়তা করে থাকে। দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে আমরা তাদের ৫% সার্ভিস চার্জে ঋণ দিয়ে থাকি, ঋণ নিয়ে তারা যেকোনো আয়ের কাজে লাগাতে পারেন। সেলিম মিয়ার ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও বড় করতে চাইলে আমাদের কাছে ঋণের আবেদন করতে পারেন। এছাড়াও আমরা তার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করবো।

কেকে/ এমএফ



মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close