শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬,
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত      কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী      আপনার সাথে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি : মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতি      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে হুমকিতে জীবন-জীবিকা
মো. নেজাম উদ্দিন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গা আগমনের পর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্তবাসীরা অনিরাপদ জীবন-যাপন করছে। সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গা থাকার কারণে সেখান থেকে অনেক রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গ্রুপে যোগদানের ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ঘটনায় আরো উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। এখন কৃষি কাজে যেতে পারছে না কৃষকরা। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও। এতে করে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা। আতঙ্কে অনেকেই যেতে পারছেন না কৃষি জমি, মৎস্য ঘের কিংবা নদীতে মাছ শিকারে। 

সীমান্তবাসীর একটাই প্রশ্ন; এই পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে? এদিকে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বানের পাশাপাশি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ উপজেলার লম্বারবিল এলাকা এক সময় ভোর হলেই কৃষক ও জেলেদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত। কৃষি জমিতে চাষাবাদ, মৎস্য ঘেরে শ্রম আর নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকতেন মানুষজন।

কিন্তু এখন সেই লম্বারবিল যেন একেবারেই নিস্তব্ধ। মাঠে নেই কৃষক, ঘেরে নেই শ্রমিক, নদীতেও নেই জেলেদের আনাগোনা। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে এপারের বাসিন্দাদের জীবনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের ভেতরে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণ হলে অনেক সময় গুলি ও মর্টারের গোলা এসে পড়ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের। বন্ধ হয়ে গেছে কাজকর্ম, হুমকিতে পড়েছে শিশুদের পড়ালেখাও।

লম্বারবিল সীমান্তের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, মিয়ানমারের গোলাগুলির ভয়ে কৃষি জমিতে যেতে পারছেন না তিনি। একই কারণে নাফ নদীতেও মাছ শিকারে নামতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, কোনো কাজকর্মই করা যাচ্ছে না। ঘর থেকে বের হতেও ভয় লাগে। যেভাবে গোলাগুলি হচ্ছে, মনে হয় যে কোনো সময় গুলি এসে শরীরে লাগতে পারে।

রমিজ উদ্দিন বলেন, গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছি না। কারণ গুলি যদি বাচ্চাদের গায়ে লাগে, তখন কী হবে; এই ভয় চারদিক থেকেই তাড়া করছে।

স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রায় দুই বছর ধরে সংঘাত চলছে। মাঝে মধ্যে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণ বন্ধ হলেও আবার নতুন করে শুরু হয়। এর ফলে টেকনাফ সীমান্তের তিনটি ইউনিয়নের বহু বাসিন্দা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

টেকনাফ আমতলী সমাজ কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় অসংখ্য চিংড়ি ঘের, চাষের জমি ও লবণের মাঠ রয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের গোলাগুলির ভয়ে সেখানে যাওয়া যাচ্ছে না। রোহিঙ্গা, জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির কারণে সীমান্তের মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে টেকনাফের তিনটি ইউনিয়নের সীমান্তবাসীরা ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। টহল জোরদারের পাশাপাশি আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে এবং জনগণকেও সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। সীমান্ত বেড়িবাঁধ ও সীমান্ত সড়কে সর্বোচ্চ অ্যালার্ট অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। পরিস্থিতি আর খারাপ হবে না, বরং উন্নতি হবে।’

কেকে/এমএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত   হুমকিতে জীবন-জীবিকা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close