সারাদেশের মতো ফরিদপুরে রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জ্বালানি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গোবরের লাঠি। গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূরা গ্যাস দিয়ে রান্না করতে পারলেও চরম বেকায়দায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের বধূরা।ফলে ফরিদপুর অঞ্চলের নিম্ন- মধ্য আয়ের মানুষ গোবর কুড়িয়ে কেউ গোবরের লাঠি তৈরি করে নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়ে, আবার অনেকে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। জ্বালানির অভাব দূর করতে ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গোবরের লাঠি।
সরেজমিন দেখা যায়, কিছু অসচ্ছল নারীরা রাস্তার পাশে, মাঠঘাট বা গবাদি পশু বিচরণের স্থান থেকে গোবর সংগ্রহ করেন। গোয়ালঘর থেকেও গোবর সংগ্রহ করেন অনেকে। বাড়ির কাজের ফাঁকে শলা তৈরি করেন নারীরা। পাটকাঠি ও বাঁশের কঞ্চিতে মুঠো মুঠো গোবর মাখিয়ে তৈরি করা শলাগুলো রোদে শুকিয়ে চার-পাঁচ দিনে বিক্রির উপযোগী করা হয়।
জানা যায়, গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছে গ্রামের মানুষকে। তা ছাড়া গ্যাস কিনে ব্যবহার করাও অনেক পরিবারের সাধ্য। এই সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে গোবরের লাঠির দিকে ঝুঁকছেন ফরিদপুর অঞ্চলের নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ। গরুর গোবরের সঙ্গে তুষ মিশিয়ে শুকনো চিকন ২-৩ ফুট লম্বা লাঠি বা পাটখড়িতে পেঁচিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি হয় এই জ্বালানি ।
কাঁচা চটাগুলো শুকানোর জন্য বাড়ির উঠানে বা রাস্তার পাশে রোদে দাঁড় করে রাখা হয়। এটি ৪-৫ দিন রোদে শুকানোর পর জ্বালানির উপযোগী হয়। এই শুকনো উপকরণগুলো মজুদ রাখা হয়। ঝড়-বৃষ্টির দিনে প্রয়োজন মতো এগুলো দিয়ে চুলায় রান্না করা যায়।
একসময় জেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করে নিজেদের চাহিদা মেটাতেন। দিন দিন জ্বালানি সংকট হওয়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষকে। তা ছাড়া গ্যাস কিনে ব্যবহার করাও সম্ভব নয় সবার পক্ষে। এই সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে গোবরের লাঠির প্রতি ঝুঁকছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন, এক সময় বাড়ির সদস্যদের নিয়ে অর্ধহারে থাকতে হয়েছে। এখন গোবরের লাঠি তৈরি করে নিজের জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি, বিক্রি করে কিছু টাকা আয় হচ্ছে । হাতে কিছু টাকাও জমেছে। আশপাশের বাড়ির নারীরা এসে গোবরের তৈরি লাঠি ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ কাজে ভালই লাভ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যাদের গ্যাস বা কাঠের খড়ি কেনার সামর্থ নেই, তারাই গরুর গোবর সংগ্রহ করে পাটকাঠি দিয়ে গবরের লাঠি তৈরি করে নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে থাকে।
আসমা নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘বাজারে এখন গ্যাস সিলিন্ডার দাম হু হু করে বাড়ছে। ধনী বা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ রান্নার কাজে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করলেও তা নিম্নবিত্তদের নাগালের বাইরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ অবস্থায় গোবরে লাঠি জ্বালানি হিসাবে আমাদের একমাত্র ভরসা।’
কেকে/এমএফ