মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত আব্বাস চৌধুরী (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত আব্বাস চৌধুরী ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামের মৃত মোসলেম চৌধুরীর ছেলে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে নিহতের মরদেহ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।
ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন সান্টু, নিহতের বোন সাহিনুর বেগম, ইকবাল ফরাজী, নিয়ন হাওলাদার, রাসেল হাওলাদারসহ আরও অনেকে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের আবুল জমাদ্দার গ্রুপের সঙ্গে শহীদ মাতুব্বার ও আব্বাস চৌধুরী গ্রুপের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গত ১৪ জানুয়ারি সদর উপজেলার চরমুগরিয়া এলাকার একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে আব্বাস চৌধুরীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
প্রথমে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আব্বাস চৌধুরীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের বোন সাহিনুর বেগম বাদী হয়ে আনোয়ার জমাদ্দারসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কেকে/এমএফ