মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
শরিকদের সঙ্গে কৌশলী প্রতারণা জামায়াতের
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:১২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করেও একাধিক আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি জামায়াতে ইসলামী। এমনকি গত মঙ্গলবার মনোনয়নপতও প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে দলটির নানা নাটকীয়তাও দেখা গেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করতে দলটির সমর্থকরা কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। আবার অনেক আসনে শরিক দলের প্রার্থীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ এবং মিথ্যা প্রচারণাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগও উঠেছে।

সর্বশেষ তথ্যমতে এখনো এনসিপির ৩টি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি জামায়াতে ইসলামী। একই চিত্র দেখা গেছে খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া সিলেট-৩, মৌলভীবাজার-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও। যেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এখনো বহাল রয়েছেন।

এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে- সংসদ নির্বাচনে শরিকদের আসন ছাড় দিলেও সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর দলীয় ভোট আগেই কৌশল স্থানান্তর করেছে জামায়াত ইসলামী। ছেড়ে দেওয়া সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে থাকা জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকদের ভোট নিজ দলের প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত আসনে কেন্দ্রীভূত করেছে দলটি।

সূত্রে জানা গেছে- ঢাকা মহানগরীতে ভোটার হস্তান্তরের ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা- ১৮, ১৩, ১১ ও ৮ আসনসহ রাজধানীর একাধিক এলাকায় থাকা সাংগঠনিক ভোট দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা- ১৫ আসনে স্থানান্তর করেছে, যা দলটির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেকই হয়েছে।

এমনকি ঢাকার বাইরেও একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। যেসব আসনে জামায়াত নিজেদের অবস্থান তুলনামূলক দুর্বল মনে করছে, সেসব এলাকার ভোট পার্শ্ববর্তী শক্তিশালী আসনে স্থানান্তরের মাধ্যমে করা হয়েছে সমন্বয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়েছে- রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি আসনে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- ভোটের রাজনীতিতে এই ধরনের কৌশল জামায়াতের নির্বাচনি পরিকল্পনার অংশ। এতে একদিকে জোট রাজনীতির সমঝোতা বজায় থাকছে, অন্যদিকে দলীয় সাংগঠনিক ভোট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে আসন ছাড়লেও ভোট পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। তবে নিজের সুযোগ ভোগ করে, অন্যদের বঞ্চিত করা এটা স্পষ্টত জোট সঙ্গীদের সঙ্গে প্রতারণা। এটা কোনো আদর্শিক রাজনীতির চর্চা নয়।

তথ্য বলছে- আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইসির ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে শুধু ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়েছেন ৮৬ হাজারের বেশি ভোটার। সবচেয়ে বেশি ভোটারের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে ঢাকার মিরপুর এলাকায়। এ কারণে অনেক এলাকায় বেড়েছে অপরিচিত মানুষের আনাগোনাও। নির্বাচন ঘিরে এমন কর্মকাণ্ডকে ভোটিং মেকানিজম মনে করছে বিএনপি। তবে, স্বাভাবিক ঘটনা বলেই দাবি জামায়াতের।

দেশের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের ঢাকা মহানগরীর নির্বাচনি এলাকায় স্থানান্তর করে নিয়ে এসে প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গত রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে কমিশনের সঙ্গে আলাপের বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগরী এলাকার বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল তাদের মনোনীত সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনে বিজয়ী করার অনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করে ব্যাপক হারে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা হতে ভোটার এলাকা পরিবর্তন পূর্বক ঢাকা মহানগর এলাকার ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।’

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন জামায়াতের এসব কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘২১০টা আসনে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েও শোকর নেই! বরং জোটের প্রতিটি প্রার্থীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ, অশালীন ভাষা ও পরিকল্পিত মানসিক টর্চার চালানো হচ্ছে।’ এর আগে তিনি আরেকটি ‘এই জোটের মূল্য কী’ এমন প্রশ্ন তুলে লিখেন- জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাঁদপুর-কচুয়া-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে মুফতি আনিসুর রহমান কাসেমী সাহেবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- স্থানীয় জামায়াত প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করছে, কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, অসহযোগিতার হুমকি দিচ্ছে এবং নোংরা ও বিশ্রী ভাষায় আক্রমণ চালাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়- স্বয়ং কথিত জোটসঙ্গী প্রার্থীই আনিস সাহেবকে নমিনেশন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো- এটা কেমন জোট? এটা কি ঐক্য, না কি সুবিধাবাদী রাজনীতি? কেন্দ্রে এক কথা, মাঠে আরেক কথা- এটা কি স্পষ্ট মুনাফিকি নয়?’

যে জোট সিদ্ধান্ত মানতে জানে না, শরিকের সম্মান রক্ষা করতে পারে না, সে জোট জাতিকে কী দেবে? এই আচরণ শুধু একজন প্রার্থীর সঙ্গে নয়- পুরো জোট রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আঘাত।

অন্যদিকে এনসিপির নেতা মশিউর রহমান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জামায়াত শিবিরের শক্তিশালী চেইন অব কমান্ড কী তাহলে ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই ভেঙে গেল? ১০ দলীয় জোটে নরসিংদীর পলাশ আসনটি এনসিপির সরোয়ার তুষার ভাইকে দেওয়া হয়েছে, অথচ জামায়াত প্রার্থী সেখানে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি!’

এর আগে নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ারের (সারোয়ার তুষার) আসনটি ১০-দলীয় ঐক্য এনসিপিকে ছেড়েছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে যাওয়ার আগেই আসনটির জামায়াতের প্রার্থী আমজাদ হোসাইনকে তার বাসায় ‘আটকে’ দেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। পরে তিনি আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মন্নানকে গ্রামের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন দলটির কর্মী-সমর্থকরা। তিনি যেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য গত মঙ্গলবার রাজনগর উপজেলার দত্তগ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে অবরোধ করে রাখা হয়। এই আসনটিতে ১০ দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বেলালকে চূড়ান্ত করার পর স্থানীয় জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একটা পক্ষ এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারছে না।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রতারণা   জামায়াত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close