মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আচরণবিধি মেনে চলা জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩২ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচন এবার দৃশ্যমানভাবে প্রবেশ করেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে। দলগুলো প্রচারে নেমেছে, নেতারা সফর শুরু করেছেন, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ বাড়ছে। কিন্তু একই সঙ্গে সংঘাত, সহিংসতা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও বাড়ছে। 

নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধির একটি বিস্তৃত কাঠামো ঘোষণা করেছে। অনলাইন ও অফলাইন—দুই ক্ষেত্রেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, গুজব, ভুয়া কনটেন্ট ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। 

সাম্প্রতিক বিশ্ব রাজনীতিতে দেখা গেছে, এআই ও ডিজিটাল বিভ্রান্তি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কীভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে সে অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই ইসির এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাগজে-কলমে নিয়ম থাকলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না বাস্তবতা তার চেয়েও কঠিন। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর মিরপুর থেকে শুরু করে মফস্বল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। আরও আশঙ্কার বিষয় হলো, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা। ৭৯ আসনে ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী শুধু দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, সহিংস প্রতিযোগিতার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি ভয়াবহ বাস্তবতা লুট হওয়া অস্ত্র। গণঅভ্যুত্থানের পর থানা ও পুলিশ ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র অবৈধ বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নির্বাচনি সহিংসতাকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে। নির্বাচনকালীন উত্তেজনার সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের মিশ্রণ যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

নির্বাচন কমিশন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব চ্যালেঞ্জ হলো—এই বাহিনী ও কমিটিগুলো কতটা নিরপেক্ষ, দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে পারবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নির্বাচনকালীন শিথিলতা বা পক্ষপাত একটি অনিয়মকে দ্রুত সহিংসতায় রূপ দেয়। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোকে সব থেকে বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে। দলীয় নেতৃত্বকে বুঝতে হবে, নির্বাচন মানেই শত্রুতা নয়, প্রতিযোগিতা মানেই সহিংসতা নয়। একই সঙ্গে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আচরণ, বক্তব্য ও প্রচারণায় সংযম না থাকলে কোনো আচরণবিধিই কার্যকর হয় না। দায় রয়েছে ভোটারদেরও। গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা আবেগী প্রচারণার ফাঁদে না পড়ে সচেতন অবস্থান নিতে হবে। গণতন্ত্র কেবল ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ থাকে না এটি সুনাগরিকগণের দায়িত্বশীল আচরণের সমষ্টিও বটে। 

নির্বাচন যদি আবারও ভয়, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার কবলে পড়ে, তাহলে সরকার বা দলের থেকেও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ। ফলে নির্বাচনপূর্বকালীন এই মুহূর্তে সব থেকে জরুরি হলো—রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বয়।  যা আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করবে। এর বাইরেও নেতাকর্মীদের সহনশীল আচরণ জরুরি। নির্বাচনের প্রচারণা ঘিরে সহিংসতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারে।  

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  সুষ্ঠু নির্বাচন   আচরণবিধি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close