আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শক্ত লড়াই হবে বলে জানা গেছে।
প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন তারা। কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচারের দিনক্ষণ ও কৌশল তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। এই আসনে ১০ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
স্থানীয় ভোটার ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে দুই দলই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী হাজী মো. জসিম উদ্দিন (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) রাজনীতিতে পরিচিত নাম। তার রয়েছে দলীয় কাঠামো, অভিজ্ঞ কর্মীভিত্তি এবং অতীত নির্বাচনী নেটওয়ার্ক। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. মোবারক হোসাইন একটি নির্দিষ্ট আদর্শভিত্তিক স্থায়ী ভোটব্যাংকের উপর ভর করেন, যা সাধারণত নীরবে কিন্তু সংগঠিতভাবে কাজ করে।
এই দুই মেরুর মাঝখানে দাঁড়িয়েছেন তরুণ প্রার্থী ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া (ঈগল)। তিনি মূলত তরুণ ভোটার, প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নাগরিক এবং রাজনীতিতে বিরক্ত একটি শ্রেণির উপর ভর করছেন।
বুড়িচং উপজেলার কলেজপড়ুয়া ভোটার ফাহিম বলেন, “আমরা গত ১৫–২০ বছর ধরে একই ধরনের মুখ দেখে আসছি। ফল কী হয়েছে, সেটা তো চোখের সামনেই। এবার অন্তত একজন নতুন মানুষকে সুযোগ দিয়ে দেখা দরকার।”
একজন বয়স্ক কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা রাজনীতি বুঝি একরকম। যে জিতবে, সে-ই ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, কৃষির অবস্থা—কোনোটারই মৌলিক পরিবর্তন দেখি না।”
কংশনগর বাজারের ব্যবসায়ী মান্নান মনে করেন, “দল বড় কথা না, দরকার এমন এমপি যিনি থানার ওসির কাছেও কথা বলতে পারবেন, আবার ঢাকায় গিয়েও এলাকার জন্য কথা তুলতে পারবেন।”
একজন নারী ভোটার, স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার বলেন, “আমাদের এখানে নারীদের সমস্যা, শিক্ষা আর স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ সিরিয়াসলি কথা বলে না। শুধু নির্বাচনের সময় সবাই আসে।”
এই তিনজনের কথাতেই ধরা পড়ে একটি বিষয়—ভোটাররা কেবল দল দেখছে না, তারা ফলাফল ও প্রতিনিধিত্ব খুঁজছে।
পুরনো ধারার নিরাপদ রাজনীতি, নাকি অনিশ্চিত কিন্তু নতুন কিছু—সেই সিদ্ধান্তই দেবে ব্যালট বাক্স। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই জনপদ সত্যিই বদলাতে চায়, নাকি বদলের কথা বলেও আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে।
কেকে/এলএ