কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের আলী আকবর মুন্সি বাড়ি এলাকায় পৈতৃক জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শফিকুল ইসলামের পুত্র ও আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামের বড় ভাই সোহরাব হোসেন (৩২) গত ৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে কুমিল্লার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (দক্ষিণ) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন—শিদলাই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে নানু মিয়া (৫৫), অলি উল্লাহ মেন্টু (৫০), বেদন মিয়া (৪৬), মৃত আবদুল মতিনের ছেলে মহসিন (৩৪) এবং মো. জুয়েল রানা (৩২)। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও গত ২১ জানুয়ারি সকালে আসামিরা বহিরাগত লোকজন ভাড়া করে বাদীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরপাড়ের একাধিক গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যায়।
মামলার বাদী সোহরাব হোসেন বলেন, “আমরা জানতে পারি প্রতিপক্ষ আমাদের গাছ জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বাধা দিতে গেলে তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে তারা লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।”
পরবর্তীতে তিনি নানু মিয়া (৫৫), অলি উল্লাহ মেন্টু (৫০), বেদন মিয়া (৪৬), মহসিন (৩৪), নানু মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল রানা (৩২) ও অলি উল্লাহ মেন্টুর ছেলে মো. হাবিব (২০)-সহ আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় আসামিরা গাছ কাটছে। পরে পুলিশের নির্দেশে আদালতের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাছ কাটা বন্ধ রাখতে বলা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে বাদী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন অফিসারকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসআই কামরুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কিছু লোক গাছ কাটছে। উভয় পক্ষকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
কেকে/এমএফ