দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলার অভিযোগে হুমায়ুন কবির (৩৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হুমায়ুন কবিরকে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও কর্তব্যরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার (সেকমো) ডা. মাহাফুজুর রহমান রোগীকে ভুলভাবে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তি হওয়ার এক ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও কোনো চিকিৎসক বা নার্স রোগীর খোঁজ নেননি। চিকিৎসা না পেয়ে একপর্যায়ে হুমায়ুন কবির মারা যান।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও সময়মতো চিকিৎসক না দেখা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গাফিলতির কারণে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তার আগেই মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই হারুনুর রসিদ সাংবাদিকদের বলেন, “রোগীর অবস্থা জরুরি থাকা সত্ত্বেও সিনিয়র চিকিৎসকের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না নিয়ে সেকমো মাহাফুজ তাকে ভর্তি করেন। ইমারজেন্সি থেকে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় কোনো ডাক্তার বা নার্স রোগীর কাছে আসেননি।”
এ বিষয়ে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকার পর রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর চিকিৎসার বিষয়টি কতটুকু নিয়ন্ত্রণে ছিল, তা আমার জানা নেই। পরবর্তী বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।”
জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিয়ম তালুকদার বলেন, “রোগীকে ভর্তি করানোর বিষয়টি আমাকে কোনোভাবেই জানানো হয়নি। প্রকৃতপক্ষে তাকে এখানে ভর্তি করার সুযোগ ছিল না। সরাসরি উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা উচিত ছিল। ভুলভাবে ভর্তি করানোর কারণে আমি চিকিৎসা দিতে পারিনি। ঘটনায় আমি মর্মাহত।”
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মেডিকেল স্টাফ ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, এই রোগীকে এখানে ভর্তি করার কোনো সুযোগ ছিল না। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুলবশত ভর্তি করেছেন এবং বিষয়টি আমাকে বা অন্য কোনো মেডিকেল অফিসারকে জানাননি। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/এলএ