মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সংঘাত উসকাচ্ছে জামায়াত
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৭ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর বাকি ১৬ দিন। রাজনৈতিক দলগুলো দেশজুড়ে চালাচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণা। ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনও প্রার্থী ও দলগুলোকে প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা বেঁধে দিয়েছে। এর বাইরে রয়েছে নির্বাচনি আচরণবিধি। যা ভঙ্গ করলে পড়তে হয় শাস্তির মুখে। এর মধ্যেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে নৈরাজ্য সৃষ্টি চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ভোটারদের এনআইডির তথ্য ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ, প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার ও প্রতিপক্ষকে উসকে দিয়ে বিভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরি।

বিশেষ করে জামায়াতের ইসলামীর নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ও বিকাশ নাম্বার চাইছে। এক্ষেত্রে তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রাখছে। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে বলছে, তারা ভোটারদের তথ্য নিতে এসেছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে, তখন আবার অনলাইনে জামায়াত ভিকটিম কার্ড খেলে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছ।

এসব নারী কর্মীদের স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করা হলে জামায়াতের বিভিন্ন পেজ থেকে ছড়ানো হচ্ছে, বিএনপি নাকি নারীদের হেনস্তা করছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীরা নিরাপদ থাকবে না।

এ ছাড়া ধর্মীয় বয়ানের নামে জামায়াতের পক্ষে চাওয়া হচ্ছে ভোট। জামায়াতকে ভোট দিলে নাকি মিলবে বেহেস্তের টিকিট। এ ধরনের বয়ান নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা যাচ্ছেন ঘরে ঘরে। ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। যদিও ধর্মীয় স্কলাররা বলছেন, ভোটের সঙ্গে পাপ-পুণ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো একটি দলকে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে- এটা ঠিক নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত সবসময় অপরাজনীতি করে আসছে। কখনো ধর্মের লেবাসে, কখনো বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতার স্বাদ পেতে চায়। এ জন্য তারা এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে উসকে দিয়ে ফাঁদ পাতে। তাদের উসকানিতে যদি প্রতিপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন সেটাকে নিয়ে রাজনীতি করে তারা। তাদের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনি বিধি ভঙ্গ করে মানুষের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে- এর প্রতিবাদ করলেই অমনি অনলাইনে তাদের শত শত পেজ থেকে একযোগে অপপ্রচার চালানো হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে উসকানিমূলক বক্তব্যে এগিয়ে জামায়াত। কারণ তারা চায়, প্রতিপক্ষ তাদের উসকানির ফাঁদে পড়ে প্রতিক্রিয়া দেখাক।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও অবাধ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২-এ বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথাগুলো বলেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা জানায়। এ ছাড়া আনসার-ভিডিপি মোতায়েন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্বিতীয় নির্বাচনি সফর উপলক্ষে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ধানের শীষের পক্ষে গণমানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। বিপুল জনসমাগমের কারণে কর্মসূচিতে কিছুটা দেরি হলেও মানুষের সরব ও উৎসবমুখর উপস্থিতি তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ২৮৭টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জন আগে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ১৯ জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনসম্পৃক্ততার এই অভিজ্ঞতা বিএনপিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় রেখেছে বলেন তিনি।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্নেও বিএনপি অগ্রসর ভূমিকা রেখেছে। দলটি ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এটি ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও কিছু রাজনৈতিক দল একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি, যা হতাশাজনক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছে বিএনপি। গুমের শিকার হওয়া তিনজন- সালাহউদ্দিন আহমদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী- বর্তমানে বিএনপির প্রার্থী। এ ছাড়া গুম হওয়া পরিবারের সদস্য হিসেবেও দুজন প্রার্থী রয়েছেন বলে জানান মাহদী আমিন।

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ : মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে ভোট চাইছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে- ‘নিজের ঈমান রক্ষার জন্য ওই প্রতীকে ভোট দিতে হবে’, ‘জান ও মাল দিয়ে সেই প্রতীককে জয়ী করানো ঈমানি দায়িত্ব’। তিনি বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এই অপপ্রয়াস অনাকাক্সিক্ষত ও উদ্বেগজনক।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ‘অসৎ প্রভাব বিস্তার’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার আশঙ্কা: সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নির্দিষ্ট দলের কর্মী-সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সংগৃহীত এ তথ্যগুলো ব্যবহার করে ভুয়া ভোট, মৃত ব্যক্তির নামে ভোট বা আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার বন্ধে নির্বাচন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিএনপির এই নেতা।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  সংঘাত   জামায়াত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close