কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় প্রকাশ্যেই জুয়াড়িদের জন্য অভয়ারণ্য গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে, যেখানে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থে লেনদেন হচ্ছে। এর মধ্যে মানিকারচর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকা সবচেয়ে আলোচিত; সেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার জুয়া খেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি জানান, মানিকারচর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় বসা জুয়ার আসরে মেঘনা উপজেলার পাশাপাশি আড়াইহাজার উপজেলার খালিয়ারচর, হোমনা ও গজারিয়া থেকেও জুয়াড়িরা অংশ নিতে আসে।
এসব জুয়া দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী নেতা-কর্মীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জুয়ার আসর থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের দায়িত্বে থাকেন মানিকারচর এলাকার নাঈম। নাঈমের নেতৃত্বে মাদবপুরের কালাই পাহারার দায়িত্বে থাকেন এবং তিনি বিভিন্ন জায়গায় লোকজন বসিয়ে রাখেন, যাতে প্রশাসন কিংবা সাংবাদিকদের কেউ যাওয়ার আগেই জুয়াড়িরা সতর্ক হয়ে যায় অথবা দ্রুত সরে যেতে পারে।
এছাড়াও জুয়া খেলায় নিয়মিত অংশ নেন উপজেলার তালুক এলাকার জালাল, টিটিরচরের রাজা মেম্বার, মানিকারচরের পারভেজ, গজারিয়ার মুক্তার ও হানিফ মেম্বার, হোমনার আনোয়ারসহ খালিয়ারচর এলাকার কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। এর মধ্যে হানিফ মেম্বার ও রাজা মেম্বার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আমন্ত্রণ করে এনে এসব জুয়ার আসর সচল রাখেন।
এ বিষয়ে নাঈমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি দ্বিতীয়বারের কলটি রিসিভ করে অশালীন ভাষায় কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর না থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মেঘনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, “পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে অভিযান শুরুর আগেই খবর পেয়ে জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, মেঘনা উপজেলায় কোথাও অবৈধ জুয়া খেলার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেউ যদি নির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ দেন, আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তাছাড়া মেঘনাকে জুয়া ও অপরাধমুক্ত রাখতে আমাদের পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
কেকে/এমএফ