মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
নির্বাচনি সহিংসতা এড়াতে ইসি ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৫ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ যতই সরগরম হচ্ছে, ততই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নির্বাচনি সহিংসতার খবর। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শেরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত একজন নিহত এবং ৪০-এর অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এসব ঘটনা সংখ্যায় হয়তো খুব বড় নয়, কিন্তু বার্তাটা স্পষ্ট। নির্বাচন এখনো সহিংসতার ঝুঁকি থেকে মুক্ত হয়নি। 

নির্বাচনি প্রচারণা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু যখন সেই প্রচারণা সংঘর্ষ, হামলা কিংবা প্রাণহানিতে গড়ায়, তখন সেটি আর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকে না। তা হয়ে ওঠে জননিরাপত্তার সরাসরি হুমকি। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরদিন প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন উসমান হাদি। সেই হত্যার বিচারও এখন পর্যন্ত হয়নি। নির্বাচন ঘিরে এরকম সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ ভোটাররা। ভয়, অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে মানুষ ভোট দিতে আগ্রহ হারায়। ভোটকেন্দ্রের পথ নিরাপদ না হলে ভোটাধিকার কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। 

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সহিংসতা রোধে বড় পরিসরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে এই প্রস্তুতি নিঃসন্দেহে বড়। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শুধু বাহিনী মোতায়েন করলেই সহিংসতা থামে না। মূল প্রশ্ন হলো প্রয়োগ ও নিরপেক্ষতা। কোথাও আচরণবিধি ভাঙা হলে ইসি কত দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেয়, সেটিই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায়। কিন্তু সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেই সেটি নিয়ে ইসির কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান হয়নি। 

গত বুধবার শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল উপজেলা প্রশাসন। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকরা আগে থেকেই মঞ্চের সামনের আসন গ্রহণ করেন। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকরা কিছুটা দেরিতে পৌঁছালে বসা নিয়ে দুই দলের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়; যার জের ধরে পরবর্তীতে দুই দল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফলে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন হতাহত হন। এই সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার নমুনা এবারই প্রথম নয়—বিগত নির্বাচনগুলোতেও সহিংসতায় অসংখ্য প্রাণের বলি হতে হয়েছে। ভিন্নমত এবং পথ মানেই শত্রু- এই মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয় সংঘর্ষ, আগুন, গুলি আর রক্তারক্তি। ভোটকেন্দ্র হয়ে ওঠে যুদ্ধের ময়দান। এই সহিংসতা এড়াতে ইসির যেমন দায় রয়েছে তেমনি দায় রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোরও। রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পারিক সহনশীলতার প্রদর্শন করলে সহিংসতা ঘটেনা। শেরপুরের ঘটনায় দেখা গেছে, প্রশাসন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুরোধ সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। ফলত সহিংসতা এড়ানো যায়নি। এই মুহূর্তে ইসির করণীয় এখানে আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার। 

প্রথমত, প্রচারণার সময় সহিংসতার ঘটনায় শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবে দেখাতে হবে। দল বা প্রার্থীর পরিচয় নির্বিশেষে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মাঠপর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় আরও কার্যকর করতে হবে, যাতে সংঘর্ষের আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তৃতীয়ত, সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে সহিংসতা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। 

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা কর্মীদের লাগামহীন আচরণ সরাসরি সহিংসতার পথ তৈরি করে। গণতন্ত্রের কথা বলার আগে দলগুলোকেই প্রমাণ করতে হবে, তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করে। এই নির্বাচন কেবল আরেকটি ভোটের আয়োজন নয়। দীর্ঘ সময়ের অনাস্থা ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনি অভিজ্ঞতার পর এটি মানুষের আস্থার বড় পরীক্ষা। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ভোটের মাঠে শান্তি ও নিরাপত্তাই হতে হবে প্রধান অগ্রাধিকার। নির্বাচন কমিশন যদি এখনই কঠোর, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ভূমিকা না নেয়, তাহলে সহিংসতার ছোট ঘটনাগুলোই বড় সংকটের ইঙ্গিত হয়ে উঠতে পারে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কোনো বাড়তি দাবি নয়। এটি গণতন্ত্রের ন্যূনতম শর্ত। ইসি, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ব সেই শর্ত নিশ্চিত করা।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  নির্বাচনি সহিংসতা   ইসি ও রাজনৈতিক দল   দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close