মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
বিদেশের সিল মানেই কি ভাল সিনেমা?
পায়েল বিশ্বাস
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ইদানীং একটা ট্রেন্ড খুব চোখে পড়ছে। কোনো সিনেমা ইউরোপের কোনো ফেস্টিভ্যালে সিলেক্ট হলেই আমরা ধুমধাম করে বলে ফেলি—‘দেশের নাম উজ্জ্বল হলো!’ ফেসবুকে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু স্যার, হাততালি দেওয়ার আগে একটু থামেন। কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন করার সময় এসেছে।

​কারণ, আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল মানেই ‘সেরা’—এই ধারণাটা সব সময় খাটে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ওইসব ফেস্টিভ্যালের জুরিদের ‘রুচি’ আর ‘এজেন্ডা’র সাথে আমাদের সিনেমাটা মিলে গেছে বলেই সেটা সিলেক্ট হয়েছে।

সোজাসুজি বলি—ইউরোপের ফেস্টিভ্যালগুলোর একটা নিজস্ব ‘চেকপয়েন্ট’ আছে। এরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে সাধারণত এমন সিনেমাই খোঁজে যেখানে—দারিদ্র্য থাকবে, পলিটিক্যাল ক্যাচাল থাকবে, রাষ্ট্র বনাম ব্যক্তির হাহাকার থাকবে। সমস্যা এই টপিকগুলো নিয়ে না, সমস্যা হলো ট্রিটমেন্ট নিয়ে। মনে হয়, পরিচালকরা দেশের দর্শকের জন্য গল্প না বলে, বিদেশের জুরিদের খুশি করার জন্য একটা ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি ন্যারেটিভ’ বানাচ্ছেন। সিনেমার প্রাণ বা গল্পের চেয়ে সেখানে ‘ইস্যু’ বিক্রি করাটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। এটা কি সিনেমা, নাকি ফেস্টিভ্যালের জন্য বানানো প্যাকেজ?

যে ছবিটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে, সেটা নাকি ‘পলিটিক্যাল থ্রিলার’। ভাই, থ্রিলার মানে তো বুঝি—বুকের ধড়ফড়ানি বাড়বে, ঘটনার ঘনঘটা থাকবে, টানটান উত্তেজনা থাকবে। কিন্তু আমাদের তথাকথিত ‘আর্ট ঘরানার’ থ্রিলারে কী দেখি? গল্প আগায় না, খালি লম্বা লম্বা শট, আর রূপকের আড়ালে পরিচালকের ভারী ভারী স্টেটমেন্ট। আপনি সিনেমা দেখতে বসলেন বিনোদনের জন্য, আর পেলেন রাজনৈতিক ভাষণ। মেসেজ থাকুক, কিন্তু সেটা গল্পের ঘাড় মটকে কেন?

কাস্টিং নিয়ে কথা বলতেও ক্লান্তি লাগে। সেই পরিচিত মুখ, সেই চেনা ভঙ্গি। ওই অভিনেতা নিঃসন্দেহে ভাল, কিন্তু তাকে দিয়ে আর কতবার একই ধরনের ‘সিরিয়াস/গম্ভীর’ চরিত্র করাবেন? পর্দায় তাকে দেখলে এখন আর চরিত্র মনে হয় না, মনে হয়—‘ওহ, উনি তো এমনই করেন’। থ্রিলারে যদি দর্শক দেখেই বুঝে ফেলে অভিনেতা এখন কী এক্সপ্রেশন দেবেন, তাহলে সাসপেন্স থাকে কোথায়? নিরাপদ কাস্টিংয়ের এই আলসেমি থেকে পরিচালকরা কবে বের হবেন?

আমরা সাধারণ দর্শকরা ভাবি, সিনেমা ভাল তাই সিলেক্ট হয়েছে। কিন্তু পর্দার পেছনের ‘লবিং’ বা ‘নেটওয়ার্কিং’-এর খবর কজন রাখি? ফেস্টিভ্যাল প্রোগ্রামারদের সাথে খাতির আর বর্তমান ট্রেন্ডের সাথে খাপ খাওয়ানো—এগুলো অনেক সময় সিনেমার মানের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায়।

বিদেশের মাটিতে দেশের ছবি যাওয়া অবশ্যই গর্বের। কিন্তু সেটা যেন শুধু ‘ফেস্টিভ্যাল ফ্রেন্ডলি’ ডার্ক বাংলাদেশ না হয়। আমরা চাই, এমন সিনেমা যা ফেস্টিভ্যালের জুরিদের জন্য না, বরং আমাদের মাটির গল্পের জন্য বানানো। ​সিনেমা যেন ‘প্রোডাক্ট’ না হয়ে, সত্যি সত্যিই ‘সিনেমা’ হয়ে ওঠে—এই আশাটা কি খুব বেশি?

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিদেশের সিল   ভাল সিনেমা   পায়েল বিশ্বাস  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close