বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকার দুর্গম পাহাড়ি গহীন জঙ্গলপথ ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশের পর আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক।
আটকরা হলেন—নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নাগরিক বাগান এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুসের ছেলে মো. সাইমন (২৭) এবং চাকঢালা চেরারকুল এলাকার হাজ্বী নজির আহমেদের ছেলে শরিফুদ্দীন (১৮)।
স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তারা মাদক সরবরাহ সংক্রান্ত পূর্বের পাওনা অর্থের জের ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গিয়ে আরাকান আর্মির মাধ্যমে আটক হন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অপর এক চোরাকারবারি জানান, আটক উভয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আটক শরিফুদ্দীনের বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি গোপনে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের বহুল আলোচিত বান্ডুলা বাজারে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন রাস্তা ব্যবহার করে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচারের অভিযোগে ওই দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে আটক দুইজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেরারকুল এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করছে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কিছু সহযোগী চোরাকারবারি ও স্বজনও ছিলেন।
চেরারকুল এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সবাই জানে কারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এখন এটাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।”
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা মো. মেজাহের মিয়া বলেন, “মানববন্ধনের নামে যদি অপপ্রচার চালানো হয়, তাহলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর। সীমান্তে শান্তি দরকার, মাদক নয়।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় চোরাকারবারি চক্রের ছত্রছায়ায় স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে, যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক চোরাচালানে জড়িতদের নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক বিরোধের কারণেই তারা আটক থাকতে পারে। সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির টহল কার্যক্রম জোরদার রয়েছে এবং জনগণকে অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকতে নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব।
কেকে/এলএ