মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা
সফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৪ এএম আপডেট: ০১.০২.২০২৬ ১০:১৭ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বাকি আর ১১ দিন। প্রার্থীদের প্রচারণা আর জনসংযোগে জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ। গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট শক্তি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 

তারপরও ভোট ডাকাতির শঙ্কা করছেন অনেকেই। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে বারবার ভোট ডাকাতির বিষয়টি বলা হচ্ছে। তাতে জনমনেও আশঙ্কা জাগছে, এবারের ভোটেও কি প্রতিফলিত হবে তাদের রায়? নাকি ফ্যাসিস্টের সময়ের মতো আরেকটি পাতানো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। 

যদিও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে কোনো আপস নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষতার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না নির্বাচন কমিশন। সবাইকে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’ 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোট ডাকাতি বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কা একেবারে অমূলক নয়। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু কিছু উপদেষ্টা ও প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তির আচরণে সন্দেহ দানা বাঁধছে। প্রশাসনের একটি অংশ এনসিপি ও জামায়াতের দিকে ঝুঁকে আছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। এ ছাড়া বিদেশি কূটনৈতিক পাড়ার চিরাচরিত দৌড়ঝাঁপ তো আছেই। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ৫ আগস্টপরবর্তী সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জামায়াত তার লোকদের সেট করেছে। তারা নানাভাবে জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছে। তার একটি প্রমাণ পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান। ব্যালটে এমন স্থানে থানের শীষ প্রতীক রাখা হয়েছে যা সহজে চোখে পড়ে না। বিএনপি থেকে এ নিয়ে অভিযোগও করা হয়েছিল। 

এ ছাড়া প্রশাসন ও উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন এনসিপি ও জামায়াতের প্রতি সহানভূতিশীল বলেও এ বিশ্লেষকের অভিযোগ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ ভয়হীন পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু তাদের রায় কতটা প্রতিফলিত হবে তাই দেখা বিষয়। তিনি আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনে জামায়াতের আধিপত্য তাতে, আরেকটি পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা থেকেই যায়। 

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) সভাপতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমান গতকাল এক গণমাধ্যমেক দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘আমি আসলে এখন পর্যন্ত আমার ফ্রেমের মধ্যে কোনো ইলেকশনই দেখি না। নামে মাত্র ইলেকশনটাও দেখি না। 

আমি মনে করি যে ১২ তারিখ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়াই সবার জন্য খুব কঠিন হবে। আর যদি ইলেকশন হয়ও, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি খারাপ নির্বাচনের নজির হয়ে থাকবে এবং ভোটের দিনেই নির্বাচনটি আনম্যানেজেবল হয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার ধারণা, সরকার আসলে গণভোটটাই করতে চায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার, নেওয়া দরকার, সেটা একেবারেই নেওয়া হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়নি। 

সরকারসংশ্লিষ্ট বা সরকারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পক্ষগুলোর দাবি ছিল আগে গণভোট হোক, পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন; হয়তো সরকার সে রকম চাইছে। কিন্তু এটাও সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না। আর নির্বাচন যদি শেষ পর্যন্ত করাও যায়, সেটা একটা ওয়েল ইঞ্জিনিয়ারড ইলেকশন হবে। এমন একটা ধোঁয়াটে পরিবেশের মধ্যে ইলেকশনটা হবে যে কারও পক্ষেই বোঝা সম্ভব হবে না, কোথা থেকে কী হচ্ছে এবং ফলাফলটা হতে পারে খুবই সারপ্রাইজিং। সারপ্রাইজিং এই অর্থে, সাধারণভাবে যে দলটি জয়ী হবে বলে পারসেপশন তৈরি হয়েছে, তারা নাও জিততে পারে।’

নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে ষড়যন্ত্র হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের আবারও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবার জনগণ ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। 

কখন যাবেন? ফজর নামাজ পড়ে নয়, যার যার ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজর পড়বেন। যাতে আগে থেকে ওখানে কেউ অবস্থান নিতে না পারে। কেউ ষড়যন্ত্র করে আগেই যাতে কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে বসে না থাকে, (সেজন্য) সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। গত ১৫/১৬ বছর আপনারা দেখেছেন কীভাবে সারা বাংলাদেশে আপনাদের যে ভোটের অধিকার সেই অধিকারকে কীভাবে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল? এবার ডাকাতি করতে দেবেন? ভোট ডাকাতি হতে দেবেন? ভোট ডাকাতি করতে দেবেন না।’

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন : গত ১৩ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি বক্তব্যে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সেদিন এক অনুষ্ঠানে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি নিশ্চিতএ তরুণদের অনেকেই এবারের নির্বাচনে জয় লাভ করবেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার এমন বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়, যাতে বিশেষ কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রতীয়মান হয়। কিন্তু তিনি তা করেছেন। 

এ বিষয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘এই সরকার কিছুটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতোই কাজ করছে। ফলে কোনো তরুণ, যুবক বা পৌঢ় কারও পক্ষেই প্রধান উপদেষ্টার এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া শোভন নয়। এটি তার মর্যাদার সঙ্গে যায় না।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এর মাধ্যমে সরকার কি এমন কোনো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা (এনসিপি) যাতে নির্বাচনে জিততে পারে, সে ব্যাপারে সরকার ভূমিকা রাখতে পারে?’

কী বলেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এ দেশের তরুণরা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং খুব শিগগির ১২ ফেব্রুয়ারি তারা ব্যালটে থাকবে। আমি নিশ্চিত, তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন।’ 

এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছিলেন, প্রশাসনে খুঁজে খুঁজে ‘জামায়াত-শিবিরের’ লোক বসানো হচ্ছে। 

রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা প্রশাসনে তো আছেই। এরপর যেসব ছেলেরা সেই বিশেষ ইসলামপন্থি দলটির, যারা একসময়ে ছাত্র জীবনে শিবির করেছেন, তারপরে তারা ক্যাডার সার্ভিসের সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু এরপরেও যদি তারা শিবিরের ক্যাডার থাকেন, তাহলে এই রাষ্ট্রটি একটা ‘ফাংশনাল’ রাষ্ট্র হবে না। 

এ রাষ্ট্রটি একটি ‘আর্টিকুলেট’ রাষ্ট্র হবে না। আর এভাবে যদি এভাবে খোঁজখবর নিয়ে, এই এই লোকগুলো জামায়াতের, এই এই লোকগুলো শিবিরের, এদের ‘কি পয়েন্টে’ আনতে হবে এবং তারা যদি ভূমিকা রাখতে চান তাহলে কখনোই আপনি একটি অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন না। যখনই দলীয় মতাদর্শের ক্যাডারদের আপনি বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করবেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে দেবে না, প্রশাসনই করতে দেবে না।’

কেকে/এমএফ



মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close