কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় গিয়ে এক অসহায় রোগীকে ৫০০ টাকা দান করেন তার প্রধান সমন্বয়ক আবুল কাশেম। এতে নির্বাচনি আচারণবিধি লঙ্ঘণের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চান্দিনার মাধাইয়া বাজারের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের অফিস কক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আবুল কাশেমকে জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুর।
এর আগে চান্দিনা সেনাবাহিনীর একটি টিম আবুল কাশেমের গ্রামের বাড়ি মাধাইয়ার নাওতলায় অভিযান চালায়। ওই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন আবুল কাশেম।
তিনি বলেন, ‘আমি গত ৮-১০ দিন আগে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার পথে এক অসহায় বৃদ্ধাকে চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ৫০০ টাকা সহায়তা করি। ওই ভিডিওকে এডিট করে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রশাসনে অভিযোগ করে এবং প্রশাসন কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই আমার বাড়িতে ও আমার নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। এদিকে আমার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং আমার নেতার নির্বাচনি মাঠে প্রতিপক্ষের প্রভাব দেখানোর উদ্দেশ্যেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
আবুল কাশেম আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমাকে নোটিস করলেই আমি তাদের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পারতাম। অভিযোগের সত্যতার যাচাই ছাড়া এমন অভিযান আমার সম্মানহানীও বটে।’
নির্বাচনি সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় যে কোন অভিযোগের যাচাই-বাছাই করে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ফয়সাল আল নুর বলেন, ‘মূলত সেনা বাহিনীর সদস্যরা আবুল কাশেমের অভিযানে গিয়ে আমাকে ফোন করলে আমি সেখানে যাই। আবুল কাশেম দুঃস্ত বৃদ্ধাকে সহয়তা করার উদ্দেশ্যে দান করলেও নির্বাচ প্রচারণায় তা আচরণবিধি লঙ্ঘন, তাই জরিমানা করা হয়েছে।’
কেকে/এমএ