মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      ভূমিকম্পে কাঁপলো রাজধানী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ভোট গণনায় দেরি কাম্য নয় ইসির স্বচ্ছতা জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:২০ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নির্বাচন কেবল ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতায় ভোট গণনায় দেরি হওয়ার আশঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই দেরি যদি ঘটে, তার প্রভাব শুধু প্রশাসনিক স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনআস্থার ওপরও সরাসরি আঘাত হানতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ঘোষণা দিয়েছেন, এবার ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে। এই ঘোষণা রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দ্বিধার সৃষ্টি করেছে। বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন কিছুটা ভিন্ন। এবার শুধু নির্বাচনই নয়, সঙ্গে রয়েছে গণভোট। পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের মতো নতুন একটি ব্যবস্থাও যুক্ত হয়েছে এবং দুই ধরনের ভোটের গণনা একসঙ্গে শুরু হবে। এসব কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভোট গণনায় দেরি হতে পারে—এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তবে ভোট গণনায় দেরি হলে প্রথম যে সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা হলো গুজব ও অপপ্রচার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলতে পারে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে। ফল নিয়ে সন্দেহ, কারচুপির অভিযোগ কিংবা পুনর্গণনার দাবিতে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তৃতীয়ত, সাধারণ ভোটারের মনে হতাশা ও ক্ষোভ জন্ম নিতে পারে। তারা ভাবতে শুরু করে—তাদের ভোটের আদৌ কোনো মূল্য আছে কি না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় ধরে ফল ঝুলে থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়, যা ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এই পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। গণনা প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ ও পর্যবেক্ষণযোগ্য করতে হবে। সম্ভাব্য দেরির কারণগুলো আগেই চিহ্নিত করে বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে দেরি হলে তা গোপন না রেখে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও নিয়মিত আপডেট দেওয়া প্রয়োজন। কারণ নীরবতা ও অস্পষ্টতাই সবচেয়ে বেশি সন্দেহের জন্ম দেয়।

ভোট গণনায় দেরি শুধু সময়ক্ষেপণের প্রশ্ন নয়; এটি আস্থার প্রশ্নও। আর ভোটারদের আস্থা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম প্রধান উপাদান। ফলে ভোটারদের আস্থা রক্ষা করতে পারাটাই নির্বাচনকে অর্থবহ করে তোলে। অন্যথায় ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ হলেও ফল ঘোষণার আগেই সংকট ঘনীভূত হতে পারে।

এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা এবং ভোট গণনার সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা। কেন্দ্র থেকে জেলা, জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে ফল পাঠানোর প্রক্রিয়া যেন দ্রুত ও নির্ভুল হয়, সে জন্য আগাম রিহার্সাল ও বিকল্প পরিকল্পনা থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভোট গণনার সময় সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে পুরো প্রক্রিয়াই থমকে যেতে পারে। তাই গণনাকেন্দ্র, ফল সংগ্রহকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে, যাতে ভয়ভীতি বা চাপের পরিবেশ তৈরি না হয়। ভোট গণনায় দেরি হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়া প্রয়োজন। কোথায়, কেন দেরি হচ্ছে এবং কখন ফল প্রকাশ হতে পারে—এই তথ্য প্রকাশ্যে রাখলে গুজব ও সন্দেহ অনেকটাই কমে।

নির্বাচন কমিশনের উচিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখা। গণনা প্রক্রিয়ায় তাদের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং সংঘাতের আশঙ্কা কমে। সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো—নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ না করা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে দিতে হবে, যাতে ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।

অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল সক্রিয় রাখতে হবে। কোথাও গণনা স্থগিত হলে কীভাবে দ্রুত সমাধান হবে, তার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ থাকা দরকার। ভোট গণনায় দেরি হলে সরকার যদি স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও সংযমের পথে এগোয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অন্যথায় সামান্য প্রশাসনিক ব্যর্থতাও বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোট   জরুরি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close