মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ ৩২৯টি ভোট কেন্দ্র
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আগামী রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি রয়েছে। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই কক্সবাজারে শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণা। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন। বিভিন্ন আশ্বাসের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে দেশ গঠনে ৩০ দফা প্রস্তাবনাও তুলে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছে কোন দল এগিয়ে যাবে, সেদিকে। বর্তমানে নির্বাচনি প্রচারণা প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলীয় সমর্থন প্রদর্শনে বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫৯৮টি। এর মধ্যে ৩২৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। প্রশাসনিক পরিভাষায় ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলতে এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত সতর্কতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা জোরদার করা হবে। বাকি ২৬৯টি কেন্দ্রকে সাধারণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মোট ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। চকরিয়া উপজেলায় ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি এবং পেকুয়া উপজেলায় ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মোট ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে মহেশখালী উপজেলায় ৮৬টি কেন্দ্রের ২৭টি এবং কুতুবদিয়া উপজেলায় ৩৮টি কেন্দ্রের ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনে মোট ১৮২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৮২টি কেন্দ্রের ৫০টি, রামু উপজেলায় ৬৪টি কেন্দ্রের ৩৫টি এবং ঈদগাঁও উপজেলায় ৩৬টি কেন্দ্রের ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে মোট ১১৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। উখিয়া উপজেলায় ৫৬টি কেন্দ্রের ৪০টি এবং টেকনাফ উপজেলায় ৬১টি কেন্দ্রের ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং প্রার্থীদের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে প্রশাসন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিলগালা করা হবে, তবে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনকালীন নাশকতা, ভুয়া ভোট প্রদান এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ ও অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, স্বার্থান্বেষী কোনো মহল এসব গ্রুপকে ব্যবহার করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অনেক রোহিঙ্গা অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন কিংবা রাজনৈতিক মিছিল, জনসভা ও নির্বাচনি প্রচারণায় জড়িয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য রোহিঙ্গারা যেন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আট বছরেও রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানো সম্ভব না হওয়ায় ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশ ও নির্বাচনকালীন নাশকতার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে কক্সবাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। নজরদারি বাড়াতে গিয়ে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়, সে বিষয়েও রাষ্ট্রকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারবাসীর মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প শুধু নির্বাচনি নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে গত জানুয়ারিতে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে একাধিক উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটগ্রহণের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন এলাকাবাসী।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কক্সবাজার   ঝুঁকিপূর্ণ   শতাধিক   ভোট কেন্দ্র  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close