কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকায় পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রমিজ উদ্দিন (৫০) নামে এক বিএনপি নেতাকে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদক কারবারি মকবুল হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান।
নিহত রমিজ উদ্দিন রাজপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল উত্তরপাড়ার মৃত মোহাব্বত আলীর ছেলে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজাদ জানান, তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে তাদের খালাতো ভাই ভারতের আনন্দপুর এলাকার বাসিন্দা সিরাজের ছেলে আক্তার হোসেন (৫০) এবং তার ভাই জামির হোসেন (অদুদ মিয়ার জামাতা) গাঁজা কেনার জন্য রমিজ উদ্দিনের ভাই মিজানের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শংকুচাইল উত্তরপাড়ার শাহ আলম ও সাত্তারের দোকানের সামনে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় রমিজ উদ্দিন বিষয়টি মীমাংসা করতে এগিয়ে গেলে একই এলাকার হাসেমের ছেলে মাদক কারবারি মকবুল হোসেন তাকে কাঁচি দিয়ে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
নিহতের বোন খোরশেদা বেগম খুশো জানান, প্রথমে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মকবুলের স্ত্রী সোজেনা আক্তার এবং নিহতের ভাই মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের ভাই আব্দুল সাত্তার অভিযোগ করে বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডে একই এলাকার হাসেমের ছেলে মকবুল হোসেন (মাদক ব্যবসায়ী), সিরাজের ছেলে জামির হোসেন, নিহতের ভাই মিজান, শহীদ মিয়ার ছেলে জামাল (মাদক ব্যবসায়ী), আনোয়ারার ছেলে সুমন (মাদক ব্যবসায়ী), সন্তোষ দাশের ছেলে সুমন দাশ (মাদক ব্যবসায়ী) অজ্ঞাত কয়েকজন জড়িত। তারাই আমার ভাইকে খারাপ পথে নিয়েছে এবং হত্যা করেছে।”
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রমিজ উদ্দিনের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হবে এবং বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। নিহতের স্ত্রী ও তিন ছেলে রয়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুড়িচং থানার ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, “রমিজ উদ্দিনের হত্যার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
কেকে/এলএ