২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢাকার আশুলিয়ায় ৫ আগস্ট (শুক্রবার) আশুলিয়া থানায় লাশ পোড়ানোর মামলার রায়ে মাদারীপুরের রাজৈরের বাসীন্দা ও ওই থানার নিযুক্ত কনস্টেবল মুকুল চোকদার (৩২)-এর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এই রায়ের প্রতিবাদে মুকুলের পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। মুকুল রাজৈর পৌর এলাকার মৃত বাবুল চোকদারের ছেলে।
শুক্রবার(৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম শাফিয়া শরীফ বাজারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেন মুকুলের পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মৃত্যুদণ্ড রায়ের পূর্ণ তদন্তের আহবান জানান।
মানববন্ধনে মুকুলের মা পিনজিরা বেগম বলেন, “আমার ছেলের মুক্তি চাই আমি। আমি এই ফাঁসি মানি না। আমার স্বামী নেই, ছেলেকে নিয়ে আমি কষ্ট কইরা পড়ালেখা করাইয়া চাকরি দিয়েছি। আমি গরীব, আমার মতো এত গরীব কেউ নেই। আমি টাহা দিতে পারিনি, আজকে আমার ছেলের এই অবস্থা। যারা টাহা দিতে পারছে, তারা হয় জেল, ওসির হয় সাত বছর জেল, আর আমার ছেলে টাহা দিতে পারেনি, তার জন্য ফাঁসি।”
মুকুলের স্ত্রী সুমাইয়া বেগম বলেন, “সে ওই সময় শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। তার এমন কোন ভিডিও ফুটেজে তাকে কোথাও দেখা যায়নি। তার সুষ্ঠু কোন তদন্ত হয়নি। ওখানে যারা এসপি, ডিসি বা উপরের পোস্টে ছিলেন, তারা অনেক টাকা খাওয়াইছে আমার স্বামী একজন সাধারণ কনস্টেবল, তার কিছু নেই। সে একজন এতিম ছেলে, তার একটা ভাই নেই, তার কোনো কিছুই নেই। তারা যে এইভাবে তাকে শাস্তি দিল, নিরিহভাবে তাকে কেন এমন ফাঁসির রায় দিল, তা বোঝা যায় না। আমি এই রায় মানি না। আমি চাই এই মামলার সুষ্ঠু বিচার হোক, সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সঠিক রায় প্রদান করা হোক।’’
কেকে/এলএ