এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর–৪ আসনে হতে পারেন নারী ভোটারই বড় ফ্যাক্টর। কাউনিয়া ও পীরগাছা এই দুই উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসনটির এবারে পুরুষের চেয়ে প্রায় ১১ হাজার বেশি নারী ভোটার রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, রংপুর–৪ আসনে ৫ লাখ ৫ হাজার ২৬৩ জন ভোটারের মধ্যে কাউনিয়ায় ২ লাখ ১২ হাজার ৫৬৭ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬৯ জন। অন্যদিকে, পীরগাছায় ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৯৬ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫ জন নারী ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন।
ভোটের মাঠের চিত্র বলছে, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার মোট ১৫টি ইউনিয়ন এবং হারাগাছ পৌর এলাকায় নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অনেক কেন্দ্রে নারী ভোটার পুরুষদের প্রায় সমান, কোথাও আবার বেশি। বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও নারীরা তুলনামূলকভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থেকেছেন।
স্থানীয়দের মতে, নারীর নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান, সংসারে দ্রব্যমূল্যের চাপ, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ—এসব বিষয় নারীদের ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে সব শ্রেণির নারীই চান এমন এমপি, যিনি নারীর উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন এবং ভোটের পরেও পাশে থাকবেন। তাই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা দলীয় মার্কার স্লোগানের চেয়ে প্রার্থীর আচরণ, অতীত কর্মকাণ্ড ও সামাজিক অবস্থান নারীদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় এবারের নির্বাচনে রংপুর–৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন নারী ভোটাররা। প্রত্যেক প্রার্থীই নারীদের ভোট নিজেদের বাক্সে টানতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়। এবারে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে মূলত বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান (লাঙ্গল) ও এনসিপির আখতার হোসেন (শাপলা কলি)-এর ভোটের ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশি।
ফলে প্রার্থীদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরাও গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে নারী ভোটারদের আস্থা অর্জনে মতবিনিময় করছেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনছেন, প্রতিনিয়ত পৌঁছে দিচ্ছেন নির্বাচনী বার্তা। নারী ভোটাররা বলছেন, এখন তারা শুধু প্রচারণার ভাষা নয়, বরং তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জীবনমান উন্নয়নের দিকগুলো গুরুত্ব দিয়ে ভোটের সিদ্ধান্ত নেন।
সব মিলিয়ে রংপুর–৪ আসনে এবারে নির্বাচনী লড়াইয়ে পোস্টার, মাইক, মিছিল বা সভা-সমাবেশের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে নারী ভোট। নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে এই নারী ভোটারই নির্ধারণ করতে পারেন আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) কে বসবেন মসনদে।
কেকে/এলএ