মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জোর প্রস্তুতি জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৮ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নির্বাচনের আর মাত্র ৪ দিন বাকি। বাংলাদেশের নির্বাচনি সংস্কৃতিতে মাঠের রাজনীতির চেয়ে এখন ডিজিটাল পর্দার লড়াই কোনো অংশে কম নয়। তবে এই নতুন বাস্তবতা গণতন্ত্রের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার চেয়ে আশঙ্কার কারণ হয়েই বেশি দেখা দিচ্ছে। এখনকার নির্বাচন আর শুধু মাঠের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নেই। ভোটের লড়াই সমানভাবে চলছে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সেখানে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, বিকৃত ভিডিও বা বানানো বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া এখন আর কঠিন কিছু নয়। ফলে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কাও তত বাড়ছে, এর সঙ্গে এবারের নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহার ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

অতীতের নির্বাচনগুলোতেও আমরা ধর্মের ব্যবহার বা অপপ্রচার দেখেছি, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন আমাদের হাতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মতো শক্তিশালী প্রযুক্তি। এবার এআই ব্যবহার করে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সাজানো মিথ্যা খবর বা ‘ফেক নিউজ’ ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। এমনকি নির্বাচনের দিনে কোথাও কোনো সহিংসতা না ঘটলেও প্রযুক্তির কারসাজিতে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে বিশৃঙ্খলার ছবি ফুটিয়ে তোলা হতে পারে। এ ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি কেবল সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্তই করে না, বরং পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে একটি গভীর আস্থার সংকটে ফেলে দেয়। অর্থের প্রভাবও বড় একটি বাস্তবতা। নির্বাচনের সময় কালো টাকা ব্যবহার, ভোট কেনাবেচার অভিযোগ কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক চাপ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতাকে অসম করে তোলে। এতে যোগ হয় স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, যা প্রায়ই ভোটের পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ভোটাররা যদি মনে করেন নিরাপত্তা বাহিনী পক্ষপাতদুষ্ট, তবে নির্বাচনকে ঘিরে আস্থা দ্রুত কমে যায়। একইভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে।

ভোটের দিন গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি, সংখ্যালঘু বা দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, কিংবা ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব—এসব বিষয়ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলতে পারে। ফলাফল নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে বিতর্ক আরও বাড়ে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক চাপও এখন নির্বাচনের বাস্তব অংশ। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি দেশের নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য, তা কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বাইরেও গুরুত্ব পায়। ফলে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করার দায় আরও বাড়ে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যার প্রতিটি ধাপেই সতর্কতা ও দায়বদ্ধতা প্রয়োজন। প্রযুক্তির বাইরের এই চ্যালেঞ্জগুলো সমান গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হবে। আর একটি নির্বাচন তখনই অর্থবহ হয়, যখন ভোটাররা নিশ্চিত হন—তাদের অংশগ্রহণই শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে। নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসন কি এই ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত? এখন পর্যন্ত ইসির কোনো সুসংগঠিত বা সমন্বিত প্রস্তুতির প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রযুক্তির গতি আলোর বেগে ধাবিত হয়; সেখানে যদি প্রশাসন কেবল পুরোনো আমলের পদ্ধতিতে গুজব ঠেকানোর চেষ্টা করে, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো ভোটারের অবাধে কেন্দ্রে আসা এবং ভয়হীন চিত্তে ভোট দেওয়া। যদি ডিজিটাল স্পেস জুড়ে কেবল ভয়, গুজব আর মিথ্যার ছড়াছড়ি থাকে, তবে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গাটি নষ্ট হয়ে যায়। তাই নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেবল মাঠের নিরাপত্তার কথা ভাবলে চলবে না, বরং সাইবার জগতের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে। গণতন্ত্রকে গুজবের হাত থেকে বাঁচাতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং কঠোর তদারকির কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, প্রযুক্তির এই অদৃশ্য হুমকি মোকাবিলায় রাষ্ট্র দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কেকে/এজে



আরও সংবাদ   বিষয়:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন   চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা   জোর প্রস্তুতি জরুরি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close